কাতার বিশ্বকাপ ফেরাতে পারবে ফ্রান্স, না কি মরক্কোর নতুন গল্প

0
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে।। ছবি: সংগৃহীত
কাতারের আল বাইত স্টেডিয়াম থেকে আমেরিকার বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়াম—দূরত্ব ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি হলেও আজ ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরে আসছে চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি। ২০২৬ বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও মরক্কো। চার বছর আগে কাতারে এই মরক্কোকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। তবে গত চার বছরে মরক্কো যেভাবে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে, তাতে আজকের ম্যাচটি ফরাসিদের জন্য মোটেও সহজ হবে না।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে যাওয়া মরক্কো বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বরে রয়েছে। এ বছর নাটকীয় ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর আফ্রিকান নেশনস কাপ জেতা মরক্কো চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করে যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর হাইতি, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে এখন বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কোচ মোহাম্মদ উইয়াহবির শিষ্যরা। তবে দলটির জন্য বড় ধাক্কা হলো, ইনজুরির কারণে তিন গোল করা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারির আজ মাঠে নামা হচ্ছে না। অবশ্য মধ্যমাঠের আজ্জেদিন উনাহি ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ ফর্মে আছেন। গোলপোস্টের নিচে নেদারল্যান্ডস ম্যাচের টাইব্রেকার হিরো ইয়াসিন বুনু তো আছেনই। ম্যাচ প্রসঙ্গে কোচ উইয়াহবি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আজ আমরা আর কোনো চমক নই, আর এটাই আমাদের বড় গর্বের জায়গা।” মরক্কো আজ জিতলে টানা দুই বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা সপ্তম দল হবে।

অন্যদিকে, দুর্দান্ত গতিতে ছুটছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। নিজেদের সর্বশেষ সাত ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। দলের তিন তুরুপের তাস কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে প্রতিপক্ষ রক্ষণে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই ৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির ঠিক পেছনে আছেন। দেম্বেলে করেছেন হ্যাটট্রিক এবং ওলিসে ৫টি অ্যাসিস্ট করে পেলের এক বিশ্বকাপে ৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের একদম দ্বারপ্রান্তে।

রক্ষণভাগে উইলিয়াম সালিবা ফেরায় ফরাসি দুর্গ আরও জমাট হয়েছে। তবে ফরাসি শিবিরে একমাত্র দুশ্চিন্তা মধ্যমাঠের প্রধান ভরসা অরেলিয়েন চুয়ামেনির চোট, যার আজ খেলা কিছুটা অনিশ্চিত। গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক, নরওয়ে এবং শেষ ৩২-এ সুইডেনকে হারানোর পর শেষ ১৬-তে প্যারাগুয়ের কঠিন শারীরিক ফুটবল পার করে কোয়ার্টারে এসেছে ফ্রান্স। আজ জিতলে তারা হবে টানা তিন বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যাওয়া ইতিহাসের তৃতীয় দল।

ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচের পেছনে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসও। বিংশ শতাব্দীর বড় একটা সময়জুড়ে মরক্কো ছিল ফরাসি উপনিবেশ। এমনকি বর্তমানেও ফ্রান্সে প্রায় সাত লাখের বেশি মরোক্কান বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। ফলে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে ঔপনিবেশিক শাসক আর সাবেক উপনিবেশের এই লড়াই ফুটবল ম্যাচ ছাড়িয়ে যেন এক মনস্তাত্ত্বিক সম্মানের যুদ্ধ।