কপিলমুনির পাখি পরিবার

শফিকুল ইসলাম, কপিলমুনি (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির নাছিরপুর গ্রামের একটি পরিবার এখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘পাখি পরিবার’ হিসেবে। মো. লেয়াকত আলীর বাড়িতে বছরের পর বছর ধরে বক, পানকৌড়ি, ঘুঘু, শালিখসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে পাখিগুলো শিশুদের সঙ্গে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত যত্ন ও খাবার দেওয়ার কারণে এসব পাখি বাড়িটিকে নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে।

গৃহিণী রেবেকা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই তিনি বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পাখি ও প্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখে আসছেন। শুধু পাখিই নয়, খরগোশ, বেজি, কবুতরসহ নানা প্রাণীও মানুষের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

বাড়ির মালিক মো. লেয়াকত আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বন্য প্রাণী ও পাখির প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেন। সেই ভালোবাসার কারণেই পাখিগুলো ধীরে ধীরে তাদের পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে উঠেছে।

পরিবারের শিশু সদস্যরা জানায়, তারা নিয়মিত পাখিদের খাবার দেয়। ফলে পাখিগুলো শুধু এই বাড়িতেই নয়, আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতেও স্বচ্ছন্দে বিচরণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পাখিগুলো প্রায়ই লেয়াকত আলীর বাড়িতে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটায়। এতে বাড়িটি পাখিদের একটি নিরাপদ প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।

সুন্দরবনভিত্তিক সংগঠন ‘বনবিবি’র সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, প্রাণী ও পাখির প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়লে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও সহজ হবে।

পাইকগাছা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন পিন্টু বলেন, ছোটবেলা থেকে মানুষের সংস্পর্শে এলে অনেক পাখি মানুষের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যায়। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।