কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজন হারালেন নুর আলম

0

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, একমাত্র সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত নুর আলম। আনন্দঘন পারিবারিক ভ্রমণ তাঁর জীবনে নিয়ে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার কথা ছিল যে পরিবারের, সেই পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।

নুর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে টানা আট বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি। নুর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের ওষুধ কোম্পানির চুয়াডাঙ্গা এলাকার মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।

মুঠোফোনে নুর আলম জানান, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিহা কবির, সাত বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাঁদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল।

কিন্তু শনিবার সকালে তাঁরা যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন, সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর স্ত্রী, একমাত্র ছেলে, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পান নুর আলম। খবর পেয়েই তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

নুর আলম বলেন, “শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”

নুর আলমের একমাত্র ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। যে বাসায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আট বছর ধরে সংসার করছিলেন তিনি, তাঁদের অনুপস্থিতিতে সেই বাসায় নেমে এসেছে নীরবতা।

বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে তাঁর বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাঁরা অত্যন্ত ভালো মানুষ। ঘটনার খবর শোনার পর নুর আলম ঢাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

শনিবার কক্সবাজার থেকে পরিবারের সদস্যদের চুয়াডাঙ্গায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের ফেরার অপেক্ষায় থাকা সেই বাড়ির দরজায় এখন ঝুলছে তালা। স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে নুর আলমের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, নিহতদের মধ্যে মা ও ছেলে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। বাকি চারজন তাঁদের আত্মীয়স্বজন হতে পারেন।