যশোরে জনরোষে গাঁজাকারবারী মোটরসাইকেলে আগুন

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। আগুনে পুড়ে মোটরসাইকেলটি ভস্মীভূত হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের মন্ডলগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় আব্দুল আলীম নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, মন্ডলগাতি গ্রামের মতলেব ও তার স্ত্রী মঞ্জু দুই জনই মাদক ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বেনাপোলের আব্দুল আলীমসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী মোটরসাইকেলে করে মন্ডলগাতি গ্রামে আসেন ওই দম্পতিতে গাঁজা সরবরাহ করতে। এ সময় স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে ধাওয়া করেন। তখন আব্দুল আলীম মোটরসাইকেলসহ ধরা পড়লেও তার সঙ্গী কৌশলে পালিয়ে যান।

দেয়াড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন জানান, মন্ডলগাতি গ্রামে মাদকের বিস্তার রুখতে তারা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা মাদক ব্যবসা বন্ধে তারা কাজ করছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বেনাপোলের দুই মাদক ব্যবসায়ী মন্ডলগাতি গ্রামের মতলেবের স্ত্রী মঞ্জুর কাছে গাঁজা সরবরাহ করতে আসেন।

এ সময় তারা টের পেয়ে আব্দুল আলীম নামে একজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। তবে তার সঙ্গী পালিয়ে যান। এ খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং তারা আইনগত পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগ নিতে থাকেন।

এরই মধ্যে তার (সেলিম হোসেনের) এক ভাই শামীম ‘আলাদা কথা বলার’ কথা বলে আটক আব্দুল আলীমকে তাদের হেফাজত থেকে নিয়ে পাশের একটি গলির ভেতরে যান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিলে পালিয়ে যান আব্দুল আলীম। পরে গলির ভেতর থেকে শামীম ফিরে এলে তার কাছে আব্দুল আলীম কোথায় তা জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় শামীম তাদেরকে জানান, ‘আব্দুল আলীম তার অতি পরিচিত ব্যক্তি, এ কারণে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন’। এ কথা শোনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি (সেলিম হোসেন) উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাটারি রাখার স্থানে কৌশলে বানানো বাক্সের ভেতর ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। তখন তার নির্দেশে গাঁজাসহ মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তবে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল আলীমকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে শামীমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এমদাদ নামে একজন গ্রামবাসী জানান, তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত মঞ্জু দাবি করেন, তিনি কোনো মাদকের ব্যবসা করেন না। তার স্বামী মতলেব মাদকের ব্যবসা করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলা রয়েছে। তার স্বামী বাড়িতে ফেনসিডিল রেখে দেওয়ার কারণে তাকে আটক করেছিলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই একটি মামলা ছাড়া তার আর কোনো মামলা নেই।

কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি কবির হোসেন জানান, স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন। শনিবার সকালে তাদের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।