কক্সবাজারে আগুন: নিখোঁজ মণিরামপুরের নাহিদুর ও তাঁর পরিবার

0
কক্সবাজারে আগুন: নিখোঁজ মণিরামপুরের নাহিদুর ও তাঁর পরিবার
কক্সবাজারে আগুনে নিখোঁজ যশোরের মনিরামপুরের নাহিদুর রহমান তুহিন ও তার পরিবার। ছবি : সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের মণিরামপুরের নাহিদুর রহমান তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।

নিখোঁজ নাহিদুর রহমান তুহিন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তাঁর স্ত্রী আফসানা এবং দুই মেয়ে—সাত বছর বয়সী রোবাইনা ও তিন বছর বয়সী সুনাইনা। নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের ওই রিসোর্টে একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। বুকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর কক্ষটি সংরক্ষণ করা হয়। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

এর মধ্যে শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পাওয়ার পর নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্বজনেরা। কিন্তু তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নাহিদুরের কর্মস্থলের সহকর্মীরাও তাঁদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কক্সবাজারে আগুন: নিখোঁজ মণিরামপুরের নাহিদুর ও তাঁর পরিবার
নাহিদুর রহমান তুহিন ও তার স্ত্রী আফসানা। ছবি : সংগৃহীত

নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তাঁর ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শনিবার রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাই কিংবা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা রকিবুজ্জামান বর্তমানে চীনে রয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর তিনি নিজে এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

মির্জা রকিবুজ্জামান বলেন, “খবরটি শোনার পর থেকেই আমি খুব অসহায় বোধ করছি। নাহিদ খুব ভালো কর্মকর্তা ছিলেন।”

নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিরা সিদ্দিকা সূচী জানান, নাহিদুরের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা বাড়িতে রয়েছেন। তাঁরাও ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

আগুনে ১০ জনের মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন শিশু ও দুজন নারী ছিলেন।

তিনি বলেন, মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। মরদেহগুলো উখিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নিখোঁজ ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নাহিদুরের নিখোঁজ থাকার তথ্য তিনি পেয়েছেন। তবে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তখনো নিশ্চিত তথ্য তাঁর কাছে ছিল না।

অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের কারও নাম পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাহিদুর, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের সন্ধান না মেলা পর্যন্ত তাঁদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা কাটছে না। মরদেহ শনাক্তের ডিএনএ পরীক্ষার ফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।