এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ বসছে আইসিসিবিতে, অংশ নেবে ১০ দেশের ২০০ প্রতিষ্ঠান

0
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ বসছে আইসিসিবিতে

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : দেশ-বিদেশের পর্যটন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ পর্যটন মেলা বসবে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ও ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে।

মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। আইসিসিবির তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে পর্যটন পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

আয়োজকরা জানান, মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাস ও মিশন অংশ নেবে। পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার।

এবারের মেলায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’। পাশাপাশি থাকবে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে।

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, ‘এটিএফ ২০২৬ দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ, পর্যটন পণ্যের প্রচার এবং বাংলাদেশে পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটিএফ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মেলাটির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মেলায় সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিসহ মেলার বিভিন্ন অংশীদার ও স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন।

আইসিসিবিতে কেন এই আয়োজন

আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার মতো বড় আয়োজনের জন্য আইসিসিবির সুবিশাল পরিসর ও আধুনিক অবকাঠামোকে উপযোগী বলে মনে করছেন আয়োজকরা। আধুনিক স্থাপত্য, একাধিক হল, এক্সপো জোন, উন্মুক্ত স্থান, পার্কিং সুবিধা, রেস্টুরেন্ট ও মসজিদসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে।

অনুষ্ঠানের ধরন ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনুযায়ী আইসিসিবিতে বিভিন্ন আকারের হল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। হল-১-এ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন, হল-২ ও হল-৩-এ প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন করে এবং হল-৪-এ প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের আসনব্যবস্থা রয়েছে। হল-৫-এ প্রায় ৬০০ জন এবং এক্সপো জোনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বড় আয়োজন করা সম্ভব।

বড় আন্তর্জাতিক মেলা, বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, করপোরেট অনুষ্ঠান, সেমিনার, সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় আইসিসিবিতে। বিপুলসংখ্যক গাড়ির পার্কিং সুবিধাও বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে দর্শনার্থী ও আয়োজকদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।

একই কমপ্লেক্সে প্রদর্শনী, অনুষ্ঠান, খাবার, নামাজ ও পার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন সুবিধা থাকায় আইসিসিবি রাজধানীর অন্যতম বড় ইভেন্ট ভেন্যু হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।

এবার সেই ভেন্যুতেই তিন দিনের জন্য মিলিত হবেন দেশি-বিদেশি পর্যটন খাতের অংশীজনেরা। ফলে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ পর্যটন পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, পর্যটন প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।