বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষতি বেনাপোল বন্দরে

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি

0
পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য
ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা বেনাপোল স্থল বন্দরের একটি শেড। শুক্রবার নেওয়া ছবি - লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। বন্দরের বিভিন্ন শেড ও পণ্যাগারে হাঁটুসমান পানি জমে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন স্থাপনা নির্মাণ হলেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা রয়ে গেছে আগের মতোই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন অন্তত পাঁচটি শেডে পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার সকালের পর থেকে পাওয়ার পাম্পের সাহায্যে পানি অপসারণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বর্ষায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অধিকাংশ পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতির পুরো বোঝা ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হয়।
ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরের ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নিয়মিত বাড়ানো হলেও পানি নিষ্কাশনের মতো মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে লাখ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব প্রদানকারী এই বন্দরে জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যা এখনও সমাধান না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজি রতন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি জমেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়েও কাজ চলছে।