বেনাপোলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নামে চুরি করা পণ্য পাচার, কাস্টমস কর্মকর্তাসহ আটক ৩

0
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নামে পাচার
আটক বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী , ট্রাকের চালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসান - লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে চুরি করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডারে পাঠানোর নামে বিপুল মালামাল পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউস দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা যশোর শহরের বেজপাড়ার বিশ্বজিত মুখার্জীর ছেলে ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী (৩৮), ট্রাকের চালক যশোর শহরের বকচরের মহসিন আলী (৩৪) ও হেলপার বাঘারপাড়া উপজেলা ঘুনি বাকডাঙ্গার জাহিদ হাসান (২১)।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান সোমবার রাত ১০টা ১১ মিনিটে এক বার্তায় জানান, রোববার দিবাগত রাত ২টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল বাজারের হীরা সুপার মার্কেটের সামনে আহাদ পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কার্গো ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১) তল্লাশির জন্য থামানো হয়। এরপর ট্রাকটি বেনাপোল বিজিবি বিওপিতে নেওয়া হয়। তল্লাশিকালে ট্রাকের ভিতর হতে ভারতীয় ৬ হাজার ৮টি শাড়ি, ৬৩টি থ্রী-পিস, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না এবং ৩৩ হাজার ২২২টি বিভিন্ন প্রকার প্রসাধন সামগ্রী পাওয়া যায়। এসময় পণ্যগুলোর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা হয়।
বিজিবি কর্মকর্তা জানান, জব্দ পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। এসময় বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত মুখার্জীসহ তিন জনকে আটক করা হয়। আটক ট্রাকচালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসানকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মালামালগুলো অবৈধভাবে বেনাপোল থেকে ঢাকা পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।
বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়- প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে পাঠানোর নাম করে একটি অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি-থ্রি পিস ও কসমেটিকসের একটি চালান নিয়ে বন্দরের বেনাপোল বাজার পার হচ্ছে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে বেনাপোল দূর্গাপুর মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে একটি ট্রাক আটক করে ক্যাম্পে আনা হয়। মালামালগুলো বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন থেকে চুরি করে পরিবহন করা হচ্ছিল।
এদিকে ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউস আটক ইন্দ্রজিত মুখার্জীসহ দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুইজন এআরও ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িক বরখাস্তরা হলেন, আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী ও আরিফুল ইসলাম এবং সিপাহী মো. হামিদুর রহমান, জামসেদ রহমান ও মো. সাগর।