আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য করতে হবে ৩৪৭ রান, বাংলাদেশের লক্ষ্য ৭ উইকেট

0
আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট এবং আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আফগানরা ৩ উইকেটে ১৩২ রান সংগ্রহ করেছে।। ছবি: সংগৃহীত

আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে সিরিজের একমাত্র টেস্ট জিততে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট এবং আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের চমৎকার সেঞ্চুরির সুবাদে ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তান পায় ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য। এর জবাবে চতুর্থ দিন শেষে আফগানরা ৩ উইকেটের বিনিময়ে ১৩২ রান সংগ্রহ করেছে। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান এবং আফগানিস্তান সংগ্রহ করেছিল ২৪০ রান।

আবুধাবির মাঠে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান সংগ্রহ করেছিল। সে সময় লিটন ৫ রানে এবং মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন। চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর পর শুরুতেই দু’বার জীবন পান লিটন দাস। ১৪ ও ২৬ রানে আফগানিস্তানের স্পিনার কাইস আহমেদের বলে তিনি ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান।

জীবন ফিরে পেয়ে লিটন আর পেছনে ফিরে তাকাননি। মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন। অসাধারণ ব্যাটিং করে ৬১ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি এবং ১১২ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন লিটন। লিটনের সেঞ্চুরির ঠিক আগের ওভারেই নিজের ১১তম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মেহেদী হাসান মিরাজ। অবশ্য এর আগে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে আফগান পেসার মোহাম্মদ সালিমের বলে ক্যাচ দিয়ে তিনিও একবার বেঁচে গিয়েছিলেন।

ইনিংসের ১০৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সালিমের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন লিটন দাস। তাঁর আউটের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে। ইনিংস ঘোষণার আগে দল ৭ উইকেটে ৩৭২ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়।

লিটন দাস মোট ১৪টি চারের সাহায্যে ১১৭ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, মিরাজ ৫টি চারের সাহায্যে ৯৭ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। সপ্তম উইকেটে এই দুই ব্যাটার মিলে ২০১ বলে ১৪৯ রানের মহামূল্যবান একটি জুটি গড়েন। এর আগে এই ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে গত দিনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ এবং মুশফিকুর রহিম ৮১ রান করে আউট হয়েছিলেন। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে জিয়া উর রহমান, ইয়ামিন আহমাদজাই এবং সালিম প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তাদের প্রথম উইকেট হারায়। ওপেনার আব্দুল মালিককে মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের পেসার এবাদত হোসেন। এরপর তিনে নামা নাদা শহিদুল্লাহ ৪টি চারে মারমুখী ভঙ্গিতে ইনিংস শুরু করলেও ১৯ রান করে থামেন। পেসার হাসান মাহমুদের বলে তিনি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন।

মাত্র ২৮ রানে দলের ২ উইকেট পতনের পর শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অধিনায়ক রহমত শাহ। এই দুই ব্যাটার দারুণ প্রতিরোধ গড়ে ২১৪ বলে ৮২ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন এবং দলের রান এক শ পার করেন। ৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করা রহমত শাহকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন পেসার এবাদত হোসেন।

রহমত শাহ আউট হওয়ার পর সেদিকউল্লাহ আতাল ও হাসমতুল্লাহ শাহিদি অবিচ্ছিন্ন থেকে আরও ৪৭ বলে ২২ রান যোগ করে চতুর্থ দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন। দিন শেষে আতাল ৩৫ রানে এবং শাহিদি ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে এবাদত হোসেন ২টি এবং হাসান মাহমুদ ১টি উইকেট লাভ করেছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (চতুর্থ দিন শেষে):

  • বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৪৬/১০ (৯২.৩ ওভার)

  • আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৪০/১০ (৮৯.১ ওভার)

  • বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৭২/৭ ডি (১০৫.২ ওভার) — (লিটন ১০২, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, মিরাজ ৫২*, সালিম ২/৬৯)

  • আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস (লক্ষ্য: ৪৭৯ রান): ১৩২/৩ (৫০ ওভার) — (রহমত ৫১, আতাল ৩৫*, এবাদত ২/৩২)