দুশ্চিন্তায় যশোরের পাটচাষি : পোকায় কাটছে কচি পাতা ও আগা

পাটগাছের কচি পাতা ও আগা খেয়ে ফেলছে পোকার দল

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ: যশোরের পাটচাষিদের চোখে এখন হতাশার ছাপ। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলনের আশা থাকলেও হঠাৎ করে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণে সেই সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, পাটগাছের কচি পাতা ও আগা খেয়ে ফেলছে পোকার দল। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গাছের আগা নষ্ট হয়ে ডালপালা গজাচ্ছে, যা পাটের আঁশের মান কমিয়ে দেয় এবং ফলনও হ্রাস করে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ সুজন হাসান জানান, তিনি আট কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। শুরু থেকেই পোকার আক্রমণে ভুগছেন তিনি।
তিনি বলেন, “পাটের পাতা পোকা খেয়ে ফেলছে। একবার কীটনাশক দিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”

পাটখেতে পোকার আক্রমণ: ঝুঁকিতে ফলনএকই অবস্থা চৌগাছা ও অভয়নগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। কৃষক মজিদ মিয়া বলেন,
“পোকা গাছের আগা খেয়ে ফেলছে। তেল ও কীটনাশক ব্যবহার করেও লাভ হচ্ছে না।”
কৃষক বখতিয়ার রহমানের মতে, অতিরিক্ত আগাছা ও অনিয়মিত পরিচর্যার কারণে পোকার আক্রমণ আরও বাড়ছে। সময়মতো সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ক্ষতি কমানো সম্ভব ছিল বলেও তিনি মনে করেন।
যশোর সদর উপজেলার কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্দিষ্ট কিছু কীটনাশক ব্যবহার করে তিনি কিছুটা সফল হয়েছেন।
তিনি বলেন, “ভলিয়াম ফ্লেক্সি ও হেভিট ব্যবহার করেছি। কিছুটা উপকার পেয়েছি, তবে খরচ অনেক বেড়ে গেছে।”
তিনি আরও জানান, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে বিঘাপ্রতি খরচ ১০ হাজার টাকার বেশি হচ্ছে। এ অবস্থায় পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
যশোর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জুমান বলেন,“চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৪৩ জন চাষিকে উন্নতমানের পাটবীজ দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় মাকড় ও ঘোড়া পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন বলেন,
“কৃষকদের নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ এবং আগাছা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যশোর জেলায় ২০ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখনও সময় আছে—সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।