যবিপ্রবিতে উপাচার্যের মতবিনিময় সভা ছাত্ররাজনীতি বিতর্কে পণ্ড

ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের তুমুল বাকবিতণ্ডা; উত্তপ্ত পরিস্থিতি

0
যবিপ্রবি শিক্ষার্থী মতবিনিময়

যবিপ্রবি সংবাদদাতা,লোকসমাজ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে তুমুল বিতর্কের মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। হট্টগোলের একপর্যায়ে উপাচার্য সভাস্থল ত্যাগ করেন।
শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালুর পক্ষে ও বিপক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে উপাচার্য সভা শেষ না করেই স্থান ত্যাগ করেন এবং সভাটি পণ্ড হয়ে যায়।
এরপর রাজনীতিপন্থী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশও সেখানে অবস্থান নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায়। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে।
রাজনীতিপন্থী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সভাকালে তাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় বাধা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ‘মব’ তৈরি করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে সভার পরিবেশ নষ্ট করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এতে উপাচার্য সভা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সকল প্রকার দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। সেই অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও মববাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা বিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১ অনুযায়ী চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব বিধি লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।