শার্শার ৫২ বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে দাউদখালী খাল সংস্কার ও সোনাই নদীর সংযোগ জরু

দশকের পর দশক পানিবন্দি হাজারো একর জমি; কৃষি ও অর্থনীতি বাঁচাতে দ্রুত উদ্যোগের দাবি

0
শার্শা, জলাবদ্ধতা, দাউদখালী খাল, সোনাই নদী

আজিজুল ইসলাম:,বাগআঁচড়া (যশোর)॥ লোকসমাজ : যশোরের শার্শা উপজেলার ৫২টি বিলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এখন লাখো কৃষকের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে দাউদখালী খাল সংস্কার এবং সোনাই নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকে সময়ের দাবি হিসেবে তুলে ধরছেন এলাকাবাসী ও বিশেষজ্ঞরা।
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শার্শায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ‘উলশী-যদুনাথপুর’ প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরবর্তীতে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে ‘মাখলা-দাউদখালী’ খাল সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়। গোগা ইউনিয়নের সেতাই ব্রিজ পর্যন্ত খালের কাজ এগোলেও তাঁর মৃত্যুর পর প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।
গত চার দশকে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে শার্শা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের মাখলা ও বনমান্দার এবং দক্ষিণাঞ্চলের ঠেঙামারী ও গোমর বিলসহ মোট ৫২টি বিল বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ইছামতি নদীর জোয়ারের পানি দাউদখালী খাল দিয়ে প্রবেশ করে এসব বিলে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। বর্ষা থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী এই জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার একর আবাদি জমি অনাবাদী পড়ে থাকছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংকট নিরসনে দুটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। শার্শার কায়বা ইউনিয়নের গোমর বিলের আগা খাল থেকে কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নের সোনাই নদী পর্যন্ত সংযোগ খাল খনন করতে হবে। এটি পানি নিষ্কাশনের প্রধান ধমনী হিসেবে কাজ করবে।
রুদ্রপুর সীমান্তে দাউদখালী খালের মুখে স্লুইস গেট নির্মাণ করলে ইছামতীর লোনা পানি প্রবেশ বন্ধ হবে এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে।
আশির দশকের শুরুতে শুরু হওয়া খাল সংস্কার কাজ রাজনৈতিক অস্থিরতায় থমকে যায়। বর্তমানে দেশজুড়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়লেও শার্শা অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
এলাকাবাসীর আশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত ‘মাখলা-দাউদখালী’ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন হলে শার্শা-কলারোয়া অঞ্চলে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।