যশোর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির কেন্দ্র

যশোরের এই প্লান্টটি দেশের প্রথম আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে স্থাপিত হয়

0

যশোরের এই প্লান্টটি দেশের প্রথম আধুনিক

বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে স্থাপিত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক।লোকসমাজ-  যশোর পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

যশোর পৌরসভা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
যশোর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে চরম ব্যবস্থাপনা – লোকসমাজ

বর্তমানে বাসাবাড়ির সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য একসঙ্গে মিশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। দেশের প্রথম আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা এই প্লান্টটির বর্তমান অবস্থা স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে—বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে।
যশোর শহরতলীর হামিদপুরে প্রায় ১৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই প্লান্ট থেকে জৈব সার, বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। এতে পরিবেশ রক্ষা এবং পৌরসভার আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল বর্জ্য আলাদাভাবে নিষ্পত্তি না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এখানে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে পুরো এলাকাই এখন একটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্লান্ট এলাকা থেকে দিন-রাত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা আশপাশের বসতিগুলোতে বসবাসকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা সমস্যার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

যশোর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে হাসপাতাল বর্জ্যের সাথে সাধারণ বর্জ্য মিশে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে- লোকসমাজ

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সঙ্গে দূষিত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ মারাত্মক রোগের আশঙ্কা রয়েছে।”
অন্যদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রকল্পটি তার মূল লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী জানান, লিজ গ্রহিতা প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের যে শর্তে লিজ দেওয়া হয়েছিলো সেটি তারা পূরণ করতে পারেনি। এ কারণে বিকল্প চিন্তা করেন তারা। এসময় দ্যা স্কেট নামে প্রতিষ্ঠানটি আরও সময় নেয় এবং নতুন মেশিন নেওয়ার কথা বলেছে। এছাড়া পৌরসভারও কিছু দায় রয়েছে। সেগুলোও করা হচ্ছে।
এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার মডেল হিসেবে বিবেচিত এই প্রকল্প এখন অব্যবস্থাপনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। যে কেন্দ্র থেকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও সার উৎপাদনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সেটিই আজ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।