জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা, প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন ঘিরে নানা পরিকল্পনা

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়

0
ছবি: লোকসমাজ।

আগামীকাল থেকে কোনো মোটরসাইকেলে ৩ লিটারের বেশি পেট্রোল বা অকটেন থাকলে তাকে তেল দেবে না পাম্প কর্তৃপক্ষ। পেট্রোল পাম্পের লম্বা লাইনে এখন থেকে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ কাগজপত্রসহ অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করবে।

এছাড়া আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকালীন ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট রাস্তার সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার জন্য পুলিশ-প্রশাসন কাজ করবে। এখন থেকে যশোরের সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। ২৫ তারিখ থেকে যশোর থেকে উলশী পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কের পাশে কোনো প্রকার যানবাহন দাঁড়াতে পারবে না এবং ২৬ ও ২৭ তারিখে ওই মহাসড়কের কোনো পাম্প থেকে তেল দেয়া হবে না যানবাহনগুলোতে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলাচলের নিরাপত্তা ঠিক রাখতে ও নির্বিঘ্ন করতে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও মোটরসাইকেল চালকদের তেলের নামে অকারণ জটলা এড়াতে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। এ সময় জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশনা।

রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকালে যশোর মেডিকেল কলেজ এবং শার্শার উলশীতে ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। তিনি বিমানবন্দর থেকে বাসে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করবেন। এই সফর উপলক্ষে ২০ এপ্রিলের মধ্যে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব পালন যথাযথ করার জন্য দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যশোরে আগমনের কারণে সরকারি কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যশোর সদর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে নির্মাণসামগ্রী রাখা বা বাস, ট্রাক, ট্যাংকার ও পিকআপ পার্কিং করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যশোর শহর ও বিমানবন্দর থেকে মেডিকেল কলেজ যাওয়া পর্যন্ত সড়কের অবৈধ স্থাপনা, অস্থায়ী দোকান, নির্মাণসামগ্রী সবকিছু সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেন সভাপতি।

নিজেদের থেকে না সরালে আইন প্রয়োগ করে তা জব্দ করার নির্দেশও দেন সভার সভাপতি। এছাড়া নির্ধারিত রুট, প্যারিস রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকার সব দোকানপাট ও জ্বালানি তেলের পাম্প ওই তিন দিন বন্ধ থাকবে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব মোটরসাইকেলে ৩ লিটার বা তার বেশি তেল থাকবে, তারা পাম্প থেকে নতুন করে তেল পাবেন না। ৩ লিটারের কম তেল থাকলে পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বৈধ কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে তেল দেওয়ার অনুমতি দেবেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ১ মাসের জন্য জব্দ করা হবে। বাড়িতে তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা আনসার বাহিনীর প্রতিনিধি কীভাবে মোটরসাইকেল চালকরা তেল পরিবহন ও মজুদ করে সংকট সৃষ্টি করে, তা তাদের দেখা ও অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেন।

যেকোনো মূল্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর সার্বিকভাবে নির্বিঘ্ন করা, নিরাপত্তার চাদরে মোড়া এবং যশোরবাসীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের মেজর মুর্তজা, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, র‌্যাব-৬-এর এসপি রেজাউল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ।