চিকিৎসক দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলাকারী সামিয়া সব দায় দিলেন সাংবাদিক চক্রকে

0
ছবি: সংগৃহীত।

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা সেই শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ শান্তি সার্বিক ঘটনার জন্য একটি সংঘবদ্ধ সাংবাদিক চক্রকে দায়ী করেছেন।

তিনি দাবি করেন, ডা. রাফসানের কাছে চাঁদার টাকা না পেয়ে তাকে ব্যবহার করে এই নাটক সাজিয়েছিলেন ওই সাংবাদিকরা। তাছাড়া তাকে থানায় দুই দিনের বেশি আটকে রেখে স্বাক্ষর করিয়ে মামলা করানো হয়। তার আপত্তি থাকা সত্বেও পুলিশ আজেবাজে কথা লেখা কপিতে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিলো।

রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনই দাবি করেছেন।

এর আগে সামিয়া আফরুজ শান্তি এর আগে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে একাধিক ভিডিও ফেসবুকে দেন। এরপর তার দুলাভাই সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন। এ ঘটনার পর ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ডিবিসি জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটন।

সংবাদ সম্মেলনে সামিয়া আফরুজ শান্তি দাবি করেন, পুরো ঘটনাই ছিল একটি সাজানো নাটক। ভিডিও তৈরিতে কীভাবে কথা বলা হবেসহ সার্বিক স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন সাংবাদিক পরিচয়ের আসিফ আকবর সেতু। এ ঘটনার সাথে আরও কয়েকজন সাংবাদিক জড়িত রয়েছেন। তিনি বলেন, নানা কারণে বড় বোনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সেতু চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন। ওই সাংবাদিক চক্র তার কাছ থেকে টাকা এবং দুলাভাইয়ের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে কৌশলে তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে সামিয়া তার বোন সাজেদা আফরোজ ও দুলাভাই ডা. রাফসানের সাথে যশোরে বসবাস শুরু করেন। শালিকা ও দুলাভাইয়ের পারিবারিক স্বাভাবিক মেলামেশাকে কেন্দ্র করে বড় বোন সাজেদার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায় সামিয়া আফরুজ শান্তিকে কটু কথা শুনতে হতো।

এসএসসি পরীক্ষার পর তিনি নিজ বাড়ি লালমনিরহাটে ফিরে গেলেও বোনের সন্দেহ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোঁচামূলক স্ট্যাটাস তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। রাগের মাথায় বড় বোনকে জব্দ করতে কিছু পারিবারিক ছবি ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে মেসেজ পাঠালে তা নিয়ে একটি সাংবাদিক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

‘স্বদেশ বিচিত্রা’র সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু এবং ‘সার্চ টুডে’র সাংবাদিক ও ক্লিনিক ম্যানেজার নূর ইসলাম নাহিদ তার সরলতা ও ক্ষোভকে পুঁজি করে ডা. রাফসানের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করেন।

চাঁদা না পেয়ে তারা সামিয়া আফরুজ শান্তিকে ভয় দেখায় যে, ডা. রাফসান তাকে ‘পয়জন ইনজেকশন’ দিয়ে পাগল করে দেবে অথবা মানহানির মামলা করবে। তিনি এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে এরই সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা তাকে দিয়ে সাজানো স্ক্রিপ্টে ভিডিও সাক্ষাৎকার নেন এবং হাতিবান্ধা থানায় জিডি করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তাকে মনিরামপুর থানাতেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই দিন জিম্মি করে রেখে পরিবারের অগোচরে ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করানো হয়।

সামিয়া আফরুজ শান্তি দাবি করেন, এই চক্রের সাথে আসিফ আবকর সেতু ছাড়াও মনিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন, তহিদুল ইসলাম, সুমন চক্রবর্তী, নূর ইসলাম নাহিদ, তাজাম্মুল হোসেন এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের ব্যক্তিরাও জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সামিয়া আফরুজ শান্তির মা সেলিনা খাতুন, পিতা সাজেদুর রহমান, মামাতো ভাই হিমেল প্রমুখ।

এদিকে সাংবাদিক পরিচয়ের আসিফ আকবর সেতু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই তরুণীকে সাহায্য করতে গিয়ে তিনি এখন উল্টো বিপাকে পড়েছেন।

মনিরামপুর থানা পুলিশের ওসি মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, ওই তরুণী নিজেই থানায় এসে ধর্ষণ মামলা করেছেন। তাকে দুই দিন আটকে রেখে মামলার কপিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।