যশোরে ১১ দলের বিক্ষোভ যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ : গোলাম রসুল এমপি

0
ছবি: লোকসমাজ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার বিকেলে শহরের ঈদগাহ ময়দান রোডে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল, বিএনপি সরকার সেই পথে না হেঁটে উল্টো পথে হাঁটছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় ও গণভোটকে বাস্তবায়ন না করে সরকার তা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। গুম, খুন ও বিচারিক হত্যার মাধ্যমে দেশে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার স্বৈরাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

সব দল তখন অঙ্গীকার করেছিল যে, পরবর্তী সরকার এগুলো বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার ও পুলিশ কমিশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করেনি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে পরাজিত প্রার্থীদের পদায়ন করা হচ্ছে। তারা জনগণের রায়কে ভুলে যেতে চায়। আবারও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা চললে জনগণ তা মেনে নেবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট সংসদের ভেতরে ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

যশোর জেলা এনসিপি-র প্রধান সমন্বয়কারী মো: নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিক, এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, আরো উপস্থিত ছিলেন আবুল হাশিম রেজা, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের আইনজীবী সমিতি মোড়, দড়াটানা ও গাড়িখানা হয়ে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।