কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন

0
কুষ্টিয়ায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হামলার শিকার দরবার শরিফ; চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি দরবার শরিফ পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি পবিত্র কোরআন নিয়ে তার কিছু ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার বেলা ১টার দিকে শতাধিক মানুষ দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারের বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারীকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বেলা ৩টার দিকে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, আহত শামীমের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, কয়েক বছর ধরে শামীমের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা অসন্তুষ্ট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও আসলাম হোসেনের দাবি, শামীম দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে পবিত্র কোরআন নিয়ে করা মন্তব্যের পর।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।