এটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন!

যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের টিনের ঘরেই সব কাজ

0
যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন!
যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন- লোকসমাজ

যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের টিনের ঘরেই সব কাজ

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)।-

টিন শেডের একটি ঘরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। দেশ স্বাধীনের ৫৫ বছরেও হয়নি পরিষদের নতুন ভবন। নির্ধারিত ভবন না থাকায় ইউনিয়নবাসীর ভোগান্তি নিত্যদিনের।

এটি যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পূর্বে যশোর সদর আর দক্ষিণে পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার অবস্থান। এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ইউনিয়নে কলেজ ও মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ৪টি এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮টি। এক সময়ের অবহেলিত এ ইউনিয়নে এখন চলাচলের রাস্তা ভালো, শিক্ষা কৃষি সব দিক দিয়ে উপজেলার অন্য যে কোনো ইউনিয়নের চেয়ে এর অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের পাশাপোল গ্রামে একটি দোকান ঘরের মত টিন শেডের ঘরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও অনেকে এসেছেন ব্যক্তিগত কাজে। কিন্তু ভবনের বেহালদশায় তারা সকলেই বরাবরই আগের মতই ক্ষুব্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশাপোল ইউনিয়নটি মূলত পূর্ব-পশ্চিম লম্বা। পূর্ব পাশে হাউলি, দুড়িয়ালী, মালিগাতি, সুরেশ্বরকাটি, রানীয়ালী কালিয়াকুন্ডি, গোবিন্দপুর গ্রামের অবস্থান। গ্রামগুলো নিচু এলাকাতে অবস্থিত। এখানে সব থেকে বেশি হিন্দু সম্প্রদায় লোকজনের বসবাস। পক্ষান্তরে পশ্চিমপাশে পাশাপোল, দশপাকিয়া, রঘুনাথপুর, পলুয়া, খলশী, কালকেপুরসহ বেশ কিছু গ্রাম।

দেশ স্বাধীনের পর পাশাপোলের মো. খাইরুজ্জামান পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর কোনো ভবন না থাকায় নিজ এলাকাতেই চালাতেন অফিস। এরপর পলুয়া গ্রাম হতে শুকুর আলী হন চেয়ারম্যান, তিনিও খলশী বাজারে বসে অফিসের কাজ করতেন। পাশাপোল হতে আবু সাঈদ চেয়ারম্যান হন, তিনিও নিজ এলাকায় বসে কাজ করতেন।

পর্যায়ক্রমে মাও. আব্দুল কাদের, ইমামুল হোসেন টুটুল, শাহিনুর রহমান শাহিন, আবুল কাশেম এবং সর্বশেষ ওবাইদুল ইসলাম সবুজ চেয়ারম্যান হন। তারা নিজ নিজ এলাকাতে অফিস করে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আসবাবপত্র সর্বোপরি জনগণের ভোগান্তি লেগেই আছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি কোথায় হবে পূর্ব পাশে অর্থাৎ হাউলি দুড়িয়ালী না পশ্চিমপাশে পাশাপোল দশপাকিয়া এই নিয়ে চলে রশি টানাটানি। একপর্যায়ে ১৯৯২ সালে আদালতে এ নিয়ে করা হয় একটি মামলা যা আজও চলমান বলে জানা গেছে। মামলার কারণে শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে কোনো ভবন নির্মিত হয়নি।

স্কুল শিক্ষক মো. পান্নু বলেন, আমরা আধুনিক যুগে বসবাস করেও সেই আদিম যুগের মত কার্যক্রম পরিচালনা করি, এটি কষ্টের। পেছনের সব কিছু ভুলে গিয়ে গোটা ইউনিয়নবাসীর সুবিধামত একটি স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের একটি ভবন করা জরুরি, তাহলে কষ্ট লাঘব হবে। বর্তমান নতুন সরকার এদিকে সুদৃষ্টি দেবেন বলে তার প্রত্যাশা।

পাশাপোল, দশপাকিয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার বলেন, পাশাপোলে যে স্থানটিতে বসে এখন কার্যক্রম চলছে সেখানে ৫৪ শতক জমি আছে। স্থানটি অনেকটাই ইউনিয়নের মাঝ বরাবর বলা চলে। সব কিছু ভুলে এই জায়গায় যদি নতুন ভবন হয় তাহলে গোটা ইউনিয়নের মানুষ খুব ভালো ভাবে সেবা পাবেন, তাই এখানে নতুন সরকারের কাছে পরিষদের ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলাম সবুজের সাথে কথা বলার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও সেট বন্ধ পাওয়া যায়।