মহানগরীর স্কুল-কলেজে একদিন অনলাইন, পরদিন সশরীরে ক্লাসের পরিকল্পনা

0
সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাসের প্রস্তাব: ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন সশরীরে, ব্যবহারিক ক্লাস হবে বিদ্যালয়েই ।। ছবি: এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর এলাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে মিশ্র বা ‘ব্লেন্ডেড’ পদ্ধতিতে ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস রেখে এর মধ্যে জোর–বিজোড় তারিখ মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একদিন অনলাইনে ক্লাস হলে তার পরদিন সশরীরে ক্লাস হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্লাস নেবেন। ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসগুলো সশরীরেই নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর আগে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানান, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে তাঁরা দেশের স্কুল ব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছেন। একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫৫ শতাংশ অংশীজন অনলাইনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইনে গেলে শিক্ষার্থীরা অসামাজিক হয়ে যাবে কি না, সেটাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে এবং মন্ত্রিসভার আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

পবিত্র রমজান ও বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে নির্ধারিত কিছু ক্লাস না হওয়ায় বর্তমানে স্কুল সপ্তাহে ছয় দিন খোলা রাখা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত জ্বালানি সংকটে দেশের ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই আংশিক অনলাইন পাঠদানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগে করোনা মহামারির সময় দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর বিকল্প হিসেবে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস চালু করা হলেও গবেষণায় সেগুলোর কার্যকারিতা সীমিত বলে উঠে এসেছিল। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন শ্রেণিকক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নেই, তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।