মণিরামপুরে জমি বিরোধে হামলা ও দেশত্যাগের হুমকির অভিযোগ

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে একটি পরিবারের পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা, মারপিট এবং দেশত্যাগের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী অজয় কুমার মিত্র।

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকুরিয়া গ্রামে তাদের প্রায় এক একর ৫৪ শতক পৈতৃক জমি রয়েছে, যা তারা প্রায় ৯৩ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ মফিজুর রহমান (৫৫) ও তার সহযোগীরা ওই জমি নিজেদের দাবি করে বিভিন্নভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষরা ১৯২৭ সালের রেকর্ডে অবৈধভাবে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে এবং ২০০২ সালে আদালতে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১২ সালে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। তবুও বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে নতুন করে বিভিন্ন মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অজয় কুমার মিত্র জানান, ২০২৪ সালে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু এরপরও প্রতিপক্ষ পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে ঝড়ে ভেঙে পড়া একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় মফিজুর রহমান ও তার লোকজন দা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অজয় কুমার মিত্রসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী সদস্যরাও রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার পরপরই তিনি মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অলোক কুমার মিত্র, অসীম কুমার মিত্র, রীতা মিত্র, সুপ্রীতি মিত্র, বন্ধন মিত্র, ঐশিক মিত্র, বাপন মিত্র, আনোয়ার হোসেন গাজী, তরিকুল ইসলাম এবং অনিমেষ বসু।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।