ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দিল পাকিস্তান

0
গত বছরের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মোড় তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব বা যুদ্ধবিরতির নথি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদের জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্রগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠোর কিন্তু কৌশলগত কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি বন্ধ ও ধ্বংস করে ফেলা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরান যদি এই শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
পাকিস্তান কেবল এই প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েই থেমে নেই, বরং তারা দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য নিজেদের রাজধানী Islamabad-কে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে। বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বর্তমান পাকিস্তানি নেতৃত্বের উষ্ণ ব্যক্তিগত যোগাযোগই দেশটিকে এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে তেহরান এই প্রস্তাবের বিষয়ে কী জবাব দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।