ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান, আলোচনার ভেন্যু হতে পারে ইসলামাবাদ

0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ওভাল অফিস, হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটন ডিসি, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এখন পাকিস্তানের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সফল সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তান নিজেদের রাজধানী ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে, তখন অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসাটা অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেপ্টেম্বর মাসের সেই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গী ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সেই বৈঠকগুলো বর্তমানে এই মধ্যস্থতার পথ প্রশস্ত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য পাকিস্তানের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে, তবে ইরান এই দাবিকে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন এক অবিশ্বাসের পরিবেশে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—এখনও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার বিষয়ে নিশ্চিত করেনি, তবে ইসলামাবাদের এই উদ্যোগ সফল হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।