সংলাপের দাবি নাকচ ইরানের: জ্বালানি তেলের দাম কমাতে ট্রাম্পের নতুন ‘কৌশল’

0
সংলাপ হয়নি, ট্রাম্পের দাবি স্রেফ রাজনৈতিক চাল। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে নতুন মোড়।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনা হয়নি।

সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখান করে বলেছে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম কমানো এবং তার পরবর্তী সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় লাভ করা।
ট্রাম্পের এই নাটকীয় ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। এক পর্যায়ে তেলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলারে নেমে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৪ দশমিক ১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা আগের চেয়ে ৭ শতাংশেরও বেশি কম।
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। জবাবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, তাদের ওপর হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন মালিকানাধীন জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে মাইন স্থাপন করে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মিশ্র বার্তা এবং ইরানের অনড় অবস্থান বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।