জ্বালানি বাজারে বড় স্বস্তি: সাগরে ভাসমান ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল আসছে বিশ্ববাজারে

0
ইরানি তেল বাজারে আসার খবরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে টালমাটাল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার প্রেক্ষিতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) এখন বিশ্ববাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন ট্যাঙ্কারে করে বিশাল এই মজুদ বিপণনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি এসপেক্ট’-এর মতে, এই মজুদের পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় অন্তত ১৪ দিনের সরবরাহের সমান।

এশীয় দেশগুলো তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এই সংকটকালীন মুহূর্তে ইরানি তেলের এই বিশাল সরবরাহ বাজার স্থিতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। তবে বর্তমানে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইতালিসহ পূর্ববর্তী আমদানিকারক দেশগুলো পুনরায় এই তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভারতের তিনটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলি ও লেনদেনের স্বচ্ছতার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে তেল বহন এবং অর্থপ্রদান প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসন করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।