কারাগারেও ঈদের আনন্দ; উন্নত খাবার ও বিনোদনের পাশাপাশি থাকছে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ

0
সারাদেশের ৭৪টি কারাগারে ঈদুল ফিতরের বিশেষ আয়োজন সম্পন্ন। স্বজনদের আনা খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাতবেন বন্দীরা।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কারাবন্দী জীবনেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে দেশের ৭৪টি কারাগারে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। আগামী শনিবার সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। এই দিনটিতে বন্দীদের জন্য বিশেষ খাবারের পাশাপাশি বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা এবং স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে এই উৎসবেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, যাঁদের এবার দ্বিতীয়বারের মতো ঈদ কাটবে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপি মিলিয়ে ২১৫ জন ভিআইপি বন্দী কারাগারে রয়েছেন। ঈদের দিন সাধারণ বন্দীদের মতোই তাঁদের জন্য বিশেষ মেন্যু রাখা হয়েছে। সকালে দেওয়া হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস (অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসি), মুরগির রোস্ট, সালাদ ও মিষ্টি। রাতে থাকবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম। উন্নত খাবারের জন্য এবার মাথাপিছু ২৫০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বজনদের পাঠানো খাবার খাওয়ারও সুযোগ পাবেন বন্দীরা।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ জানান, ঈদের দিন সকালে কারাগারের ভেতরেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজের পর বন্দীদের মধ্য থেকে শিল্পীরা গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবেন। ঈদের পরদিন আয়োজন করা হয়েছে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের। বিশেষ সুবিধা হিসেবে বন্দীরা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন এবং পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে একবার সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এছাড়া কারাগারে আসা স্বজনদের জন্য গেটে চকলেট ও জুস দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।