জেলা ও দায়রা জজের অপসারণের দাবিতে অনড় যশোরের আইনজীবীরা

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে অপসারণের দাবি না মানা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রমে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন যশোরের আইনজীবীরা। এ দাবিতে তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় জেলায় বিচারিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং দীর্ঘায়িত হচ্ছে মামলার কার্যক্রম।

সোমবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির এক নম্বর ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আদালত বর্জনের পরও পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি। তার অভিযোগ, আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই বিচারক বাদী ও আসামিপক্ষের স্বজনদের নিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা সঠিক আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর আরও বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে আইনজীবীদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারক আইনগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে আইনজীবীরা সমিতিতে একাধিক অভিযোগ দেন এবং পরে বিচারকের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবী সমিতির বৈঠকও হয়েছিল। ওই বৈঠকে সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে উল্টো অবনতি ঘটে। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার জরুরি সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের দুটি আদালত এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও সংশ্লিষ্ট বিচারক আইনজীবী ছাড়াই বিচারকার্য পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ তুলে সমিতির নেতারা বলেন, এটি প্রচলিত বিচারিক রীতিনীতির পরিপন্থি।

আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে সরিয়ে অন্য কোনো বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা আদালতে ফিরে যাবেন। তবে এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ বারের সঙ্গে সমন্বয় না করেই এজলাসের কার্যক্রম শুরুর সময় পরিবর্তন করেছেন, যা নিয়েও আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সমস্যা সমাধানে আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র আইনজীবী দেবাশীষ দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, সাবেক সভাপতি এম ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু, মঈনুল হক খান ময়না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট বদলি হন। পরে ৫ নভেম্বর মোহাম্মদ আলী যোগ দিলেও চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনিও বদলি হন।

এরপর জেলা জজের পদ শূন্য থাকায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এম এম মোর্শেদের বদলির পর আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে অসন্তোষের সূত্রপাত হয়, যা পরে আদালত বর্জনের পর্যায়ে গড়ায়।