স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে দেখছে জামায়াত

0
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃণমূলের জনপ্রিয় মুখদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জামায়াত কেন্দ্র।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নীতিনির্ধারকরা এই নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। ১২টি সিটি করপোরেশনসহ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি স্তরে যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এই লড়াইয়ে একটা জায়গাও যেন খালি না থাকে। যাঁরা জীবন বাজি রেখে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সমাজ থেকে সেই ভালো মানুষগুলোকে বের করে এনে তাঁদের হাতে আমরা নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দিতে চাই।” আমিরের এই বার্তার পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে জামায়াত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মহানগরী শাখা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তিন সদস্যের একটি প্যানেল কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সংসদ নির্বাচনে জোটগত কারণে যেসব যোগ্য নেতা অংশ নিতে পারেননি, স্থানীয় নির্বাচনে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে মনোনীত অঞ্চল পরিচালকদের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির-সেক্রেটারিদের সাথে সমন্বয় করে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঈদুল ফিতরের পর বছরজুড়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয় হবে, তা নিয়ে সংসদীয় অধ্যাদেশের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের সাথে স্থানীয় নির্বাচনের চরিত্র আলাদা হওয়ায় এটি নির্দলীয় বা আলাদা প্রতীকে হওয়া উচিত। জোটগত অবস্থানের বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, জোটের অস্তিত্ব থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে এবং আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য মুখ খোঁজার মাধ্যমেই এই ‘দ্বিতীয় লড়াইয়ে’ সফল হতে চায় দলটি।