যশোর আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা; মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলসহ পরিবেশ পরিস্থিতি উন্নয়নে অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা

দলীয়করণে নিরুৎসাহ বিএনপি সাধারণ সম্পাদকের

0
ছবি: লোকসমাজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ যশোর থেকে সব ধরনের মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করার কঠোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার যশোর কালেক্টরেটের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। নির্বাচিত সরকারের অধীনে কমিটির এটিই প্রথম সভা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি জানান, চলতি মাসের মাত্র ৮ দিনে মাদকের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা বিগত এক বছরেও হয়নি। এই সময়ে অন্তত ৪০ জনকে গ্রেফতার করে সাজা প্রদান অথবা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বিশেষ প্রতিশ্রুতি। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো আটককৃত ব্যক্তির পক্ষে কোনো সুপারিশ বা তদবির আসেনি এবং প্রশাসনও তা গ্রহণ করবে না।

তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেট চললেও বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় কাজ করা সহজ হচ্ছে।

সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন প্রশাসনের বর্তমান কাজের প্রশংসা করে বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে আমরা মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছিলাম। আমাদের দলের কেউ যদি এসব অপকর্মে জড়িত হয়, তবে তার বিরুদ্ধেও আপনারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন, কোনো ছাড় হবে না। আমরা দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চাঁচড়াসহ কিছু পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সাথে মাদক কারবারিদের সখ্যতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিচার-সালিশের নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোতোয়ালি থানার ওসি কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে তিনি সভায় উল্লেখ করেন।

দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, পৌরসভা বা সরকারি কোনো কর্মকর্তা যদি বিএনপি করতে চান, তবে চাকরি ছেড়ে এসে দল করুন। কখনো শাহীন চাকলাদার, কখনো রেন্টু চাকলাদারের লোক, আবার এখন বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে সুবিধা নিতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সভায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সম্প্রতি ভারতীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। একটি চক্র জ্বালানি তেল, গ্যাস সিলিন্ডার ও ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে সরকারিভাবে কোনো দাম বাড়েনি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সভায় জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সোনা বিক্রির নামে একটি প্রতারক চক্র গ্রাম থেকে আসা সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করছে।

শহরের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান, রাস্তার ওপর ইট-বালু বা নির্মাণসামগ্রী রাখলে তা ক্রোক ও নিলামে বিক্রি করা হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাত ১২টার আগে শহরে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান প্রবেশ নিষিদ্ধ। ভাড়ায় চালিত অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিকশার তালিকা করে সেগুলো জব্দ করা হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে রাতে দোকান খোলা রাখা যাবে, তবে প্রতিটি বিপণিবিতানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা, সেনাবাহিনী ২ ইস্ট বেঙ্গলের উপ-অধিনায়ক মেজর মাসুদ, ৪৯ বিজিবির উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আসাদ, এনএসআই-এর যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।