তুচ্ছ ঘটনায় ৪ পুরুষের নির্মমতায় নারী জখম মোংলায়

বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে চার জন তাকে মারপিট শুরু করেন

0

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ মোংলায় তুচ্ছ ঘটনায় ৪ পুরুষ মিলে স্বামী পরিত্যক্তা ১ নারীকে বেদম মারপিট করে জখম করেছে। গুরুতর আহত ওই নারী এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সালমা বেগম (৪০) উপজেলার সোনাইতলা ইউনিয়নের উলুবিনিয়া গ্রামে সরকারি জায়গায় বসবাস করেন। নদী পোনা মাছ ধরে জীবীকি নির্বাহ করেন তিনি।
সালমা বেগম ও তারা পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির মধ্যে গবাদিপশু ঠেকাতে ঘরের পাশ দিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বেড়া দিচ্ছিল সালমা। সেই বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল শেখ (৪২) সহ তার অনুসারী রেজওয়ান, মকবুল ও বায়েজিদ সালমাকে মারপিট শুরু করেন। এ সময় তারা সালমাকে মারধরের পাশাপাশি ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সালমা বেগম রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। সারা শরীরে মারাত্মক ফুলে আছে তার। হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন।
আহত সালমা বেগম বলেন, এর আগে বিগত ৫ আগস্টের পর আমাকে আবাসনের সরকারি ঘর থেকে নামিয়ে দেয় রফিকুল শেখ। এরপর আবাসন সংলগ্ন সরকারি জায়গায় ঘর বেধে থাকতাম। সেখান থেকেও আমাকে উচ্ছেদ করার জন্য মারধর ও ঘর ভাঙচুর করেছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শুধু সালমা বেগমকে নয়, সুমন গাজী, ওসমান গাজী, জুবাইদ, তারিকুল, হীরক শেখ ও আরিফ শেখকে গুচ্ছগ্রামের ঘর থেকে নামিয়ে দেয় রফিকুল ও তার সহযোগীরা। এ চক্র সেখানে টাকার বিনিময়ে অন্যদের উঠিয়ে দিয়েছে। এছাড়া গুচ্ছগ্রামের দুইটি ঘর রফিক তার ধানের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন। তার দাপটে কেউ মুখ খুলতে পারেন না। স্থানীয়রা আরো বলেন, ৫ আগস্টের আগে রফিকুল শেখ দিনমজুরের কাজ করতেন। আর ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৫টি চিংড়ি ঘেরের মালিক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল শেখ বলেন, তিনি এসব কাজে জড়িত নন, সব মিথ্যা ও অপপ্রচার।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে খবর পেয়ে হাসপাতালর পুলিশ পাঠানো হয়।