মনিরামপুরে আরিফ হত্যায় জড়িত সৎপিতা সহযোগীসহ আটক, চাপাতি উদ্ধার

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মনিরামপুরে চাঞ্চল্যকর আরিফ হোসেন (১৯) হত্যায় জড়িত নিহতের সৎপিতাসহ দুই জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলার শেখ আব্দুল হাই সড়কের হোটেল হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক সৎপিতার নাম সোহেল মাহমুদ (৩৬)। তিনি মনিরামপুর উপজেলার বলিধা গ্রামের জালাল উদ্দিন গাজীর ছেলে। তার সহযোগীর নাম ফুয়াদ হাসান সৌরভ (২৬)। তিনি একই উপজেলার পাঁচাকড়ি গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১ মার্চ রাত ১১টা থেকে পরদিন ২ মার্চ সকাল ৫টার মধ্যে যে কোনো সময় বলিধা গ্রামের আরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের ভেতর ফেলে রাখা হয়। ২ মার্চ সকালে স্থানীয় লোকজন ঘেরের ভেতর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

এরপর পুলিশ এসে ঘের থেকে আরিফের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন জুলিয়া আক্তার মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িতদের অবস্থান শনাক্তের পর গত বুধবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলার শেখ আব্দুল হাই সড়কের আবাসিক হোটেল হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনালে তারা অভিযান চালান।

এ সময় ওই হোটেলের একটি রুম থেকে নিহতের সৎপিতা সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগী ফুয়াদ হাসান সৌরভকে আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আরিফের মা বাহারাইনে থাকেন। তার কাছে মোবাইল ফোনসেট চেয়েছিলেন আরিফ ও সোহেল দুই জনই। কিন্তু আরিফকে মোবাইল ফোন পাঠিয়ে দেন তার মা। ওই মোবাইল ফোনসেট আরিফের কাছে চেয়েছিলেন সোহেল। কিন্তু আরিফ মোবাইল ফোনসেট না দেওয়ায় ক্ষোভে সোহেল দুই সহযোগী নিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে তার লাশ মাছের ঘেরের ভেতর ফেলে দেওয়া হয়।