যশোরে আ.লীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর মুক্তিতে আতঙ্ক

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে বিভিন্ন সময় আটক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ায় সর্বত্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করাসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার সাথে জড়িত অভিযোগে পুলিশ তাদেরকে আটক করেছিলো। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তারা নির্বাচনের আগে ও পরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মুক্তি পাওয়ার পর যদি কেউ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে যশোরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উল্লেখ সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাদেরকে বিভিন্ন নাশকতার মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যশোরের আদালত থেকে এ সব মামলার অর্ধশতাধিক আসামি জামিন পেয়েছেন। তারা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে গেছেন।

আদালত পুলিশ পরিদর্শক মোছা. রোকসানা খাতুন জানান, সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আদালত থেকে ১৯ জন জামিন পেয়েছেন। এছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময় ৭/৮ জন করে জামিন পেয়েছেন আদালত থেকে।
তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, বৃহস্পতিবার ২১ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

ওই সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, মনিরামপুর উপজেলার রামপুর গ্রামের আবু বক্কর গাজীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ, শ্রীপুর গ্রামের মৃত নরেন্দ্রনাথের ছেলে উজ্জল দে, দুর্গাপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম, অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে মাহবুব শেখ, ধোপাদী দপ্তরী পাড়ার আব্দুস সালাম মোল্লার ছেলে সাজিদ মাহমুদ, আমডাঙ্গা গ্রামের মৃত হাসেম আলীর ছেলে সাজ্জাদ হোসেন, দক্ষিণ দেয়াপাড়ার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন, গ্রামপাড়ার মৃত আবেদ আলী শেখের ছেলে মামুনুর রশিদ, বনগ্রামের আজিম মোড়লের ছেলে মুরাদ হোসেন, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আলেক গাজীর ছেলে মোক্তার গাজী, গুয়াখোলা মহিলা কলেজ রোডের নাসির বাঘার ছেলে অনিক বাঘা, সিদ্দিপাশা গ্রামের মৃত গোলাম নবী শেখের ছেলে মহসিন শেখ, যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিম পাড়ার সাখায়েত হোসেনের ছেলে জিনারুল ইসলাম, শংকরপুর আশ্রম রোডের আতিয়ার রহমানের ছেলে অমিত হাসান, ঝিকরগাছা উপজেলার উত্তর রাজাপুরের (মাঝের পাড়া) মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে কামাল হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ী গ্রামের মৃত উপেন্দ্রনাথ দে’র ছেলে বাবু কুমার দে, মৃত লুৎফর মোল্লার ছেলে সাহেব আলী, দোহাকুলা দক্ষিণ পাড়ার মৃত তছির মোল্লার ছেলে এবাদুল ইসলাম, রাধানগর গ্রামের মৃত আবু বক্কার মোল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন রিপন, নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের মৃত গোপাল অধিকারীর ছেলে সুরঞ্জিত অধিকারী পলক ও দয়ারামপুর গ্রামের সুফি সিদ্দিক মিনার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এদিকে একদিনে ২১জনসহ বিভিন্ন সময় অর্ধশতাধিক নাশকতার মামলার আসামি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ায় সর্বত্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগে তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ায় ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিষয়টি সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, জামিনে মুক্তি পেয়ে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।