বাল্যবিয়ে ও বরকে আটকে রেখে টাকা দাবি,মহুরিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাল্যবিয়ে দিয়ে বরকে আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগে সোমবার আইনজীবী সহকারী (মহুরি) কায়েম আলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আইনজীবী সহকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে অপর একজন আইনজীবী সহকারী মামলাটি করেছেন। তিনি শহরতলীর বিরামপুরের জাফর আলীর ছেলে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন-যশোর সদর ফতেপুর গ্রামের মৃত হানেফ মোল্যার দুই ছেলে কায়েম আলী ও সাইদুল ইসলাম, আহাদ উল্লাহর ছেলে সেলিম হোসেন ও দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম শিমুল।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আসামি কায়েম আলী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন যশোরে আদালতে আইনজীবী সহকারী হিসেবে কাজ করেন। সেই সুবাদে তাদের পরিচয় এবং দুজনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কায়েম আলী তার এইচএসসি পড়–য়া পুতনিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন মামুনকে। মামুন তার কথা রাজি হয়ে মেয়ে দেখতে যান। কিন্তু মেয়ে দেখে ছোট মনে হওয়ায় মামুন তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। এ কথা শুনে কায়েম আলীসহ অন্যরা প্রয়োজনীয় জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। এরপর হোসেন নামে একজন কাজীকে ডেকে এনে পুতনির সাথে মামুনের জোর করে বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর মামুন তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসতে চান। এতে আসামিরা তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন। মেয়ের বয়স ১৮ পূর্ণ হলে শ্বশুরবাড়িতে তাকে পাঠাবেন না বলে আসামিরা জানিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, আসামি কায়েম আলী প্রায় মামুনকে মোবাইল ফোন করে তার কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন। তাকে হুমকিও দেন। গত ২২ মার্চ বিকেলে কায়েম আলী কৌশলে মামুনকে আসামি সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান এবং তাকে ঘরে আটকে রেখে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে মামুন মোবাইল ফোন করে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানােেল তারা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।