অবৈধ ভিওআইপি চক্রের সাথে যশোরে গ্রেপ্তার যুবকের যোগসূত্র 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ ২০ জনকে হুমকি

0
আটককৃত বাবুল হোসেন

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, প্রসিকিউটরসহ আদালত সংশ্লিষ্টদের হুমকির যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক যশোরে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার হওয়া বাবুল হোসেন নামের এক যুবকের সঙ্গে এই হুমকির যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

মোট ২০ জনকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহার করে যশোর ও ভোলা অঞ্চল থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও প্রসিকিউটরসহ আদালত সংশ্লিষ্ট ২০ জনকে অবৈধ ভিওইপির মাধ্যমে যশোর ও ভোলা থেকে হুমকি দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে যশোর শহরের পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে অবৈধ ভিওআইপি পরিচলানার অভিযোগে ৩১৭টি ভারতীয় সিম কার্ড ও সরঞ্জামসহ বাবুল হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

ওই হুমকির সাথে আটক বাবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্টরা। বাবুল হোসেনের সাথে আরও দুই জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যলের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যলের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় তারা ঢাকার শাহাবাগ থানায় জিডি করেছেন। সেই সাথে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তারা তদন্ত করছেন। তারা জানতে পেরেছেন যশোর ও ভোলা থেকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে যশোরের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ ভিওআইপির সরঞ্জামসহ এক যুবককে আটক করেছে।

এ খবর পেয়ে দুই দিন আগে (২৭ নভেম্বর) তিনি যশোরে আসেন। যশোরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছেন, ওই যুবকের কাছ থেকে বাংলাদেশি গ্রামীণ ফোন ও এয়ারটেল কোম্পানির ২টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহার করে এই দুটি সিম নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিলো।

তদন্তে তিনি আরো জানতে পেরেছেন, আটক যুবকের সাথে আরো দুই জন জড়িত রয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি তাদের নাম প্রকাশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ও কোতয়ালি থানার পুলিশ যশোর শহরের পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা

বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার মসজিদ গলির জনৈক খন্দকার মো. মিলনের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া বাবুল হোসেনকে আটক এবং তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানির ৩১৭টি সিম কার্ড এবং অবৈধভাবে ভিওআইপি পরিচালনায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক বাবুল হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নোয়ানী গ্রামের মোহাম্মদ চাঁদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে। তার সাথে আরো কয়েক জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

এ ঘটনায় কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবি পুলিশের ওসি মো. মঞ্জুরুল হক ভূঞা।