ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটরের ১ কোটি টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারি: চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁসে তোলপাড়

0
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার, যার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কারাবন্দী সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন নিশ্চিত করতে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে ফজলে করিমের পরিবারের কাছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেন। ঘটনার অনুসন্ধানমূলক তথ্য ও অডিও রেকর্ডগুলো সংবাদমাধ্যমের হাতে আসার পর গতকাল সোমবার তিনি পদত্যাগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বর্তমানে কারাবন্দী। ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইমুম রেজা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হলেও ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার তেমন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, তিনি ফজলে করিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২৬ বার যোগাযোগ করেন এবং অন্তত ১৪ বার ঘুষের প্রস্তাব দেন। একটি রেকর্ডিংয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ১ কোটির কথা বলেছিলাম; যদি ১০ লাখের মতো অগ্রিম (ইন ক্যাশ) দেওয়া যায়, তবে খুব ভালো হয়।’

অভিযুক্ত প্রসিকিউটর তদন্তাধীন মামলার গোপন তথ্য সরবরাহ এবং তদন্তকারীদের প্রভাবিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আইসিটির তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তাকে সংশ্লিষ্ট মামলা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইমুম রেজা পুনরায় ওই মামলায় ফেরার চেষ্টা করেন এবং নতুন প্রধান প্রসিকিউটরের সাথে সখ্যতার দোহাই দিয়ে আবারও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে ফজলে করিমের পরিবার নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত অডিও প্রমাণ জমা দেয়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার পরপরই তিনি ‘শিক্ষকতায় ফেরার’ অজুহাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও সাইমুম রেজা সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে বানোয়াট দাবি করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি বিচার অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।