যশোরে রোজার প্রথম দিনেই বেড়েছে ফলের দাম

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে যশোরের ফলের বাজার ঊর্ধ্বমুখি। ইফতারে ফলের চাহিদা বেশি থাকায় সকাল থেকেই শহরের চৌরাস্তা, রেলগেট, বেজপাড়া ও দড়াটানা এলাকার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এ সুযোগে দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। দেশি-বিদেশি প্রায় সব ধরনের ফলের দাম কেজি ও ডজনপ্রতি ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

দেখা গেছে, কলার বাজারে সবচেয়ে বেশি ভিড়। সাগর কলা ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা, সবরি কলা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও বাংলা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও এসব কলা ২০ থেকে ৩০ টাকা কম দামে পাওয়া যেত। মৌসুমি বরই কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তরমুজের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে আনারস প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিদেশি ফলের মধ্যে মাল্টা কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা ও আপেল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানকে ঘিরে খেজুরের চাহিদা বাড়ায় মানভেদে ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি ফলের আমদানি কম হওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করেছে।

ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এসএস সাইফুল আলম লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন চুন্নু জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের আড়ৎ থেকে রমজানের আগেই বাড়তি দামে ফল কিনতে হয়েছে। আড়ৎদাররা বলছেন, আমদানি কম হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া পরিবহন খরচ ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধিও খুচরো দামে প্রভাব ফেলেছে।

শহরের চৌরাস্তা এলাকায় ফল বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, রমজানের প্রথম দিনেই চাহিদা বেড়ে যায়। পাইকারি বাজার থেকে আমরা দাম বেশি দিয়ে কিনছি, তাই খুচরো বাজারেও দাম কিছুটা বেশি।

একই কথা বলেন, রেলগেট এলাকার সোহেল রানা। তিনি বলেন, ক্রেতাদের চাপ বেশি। বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকলেও আমদানির খরচ বেড়ে গেলে খুচরো মূল্য বাড়তে বাধ্য।

এ পরিস্থিতি চিন্তিত রোজাদাররা। কী দিয়ে ইফতার করবেন তা তারা ভেবে পাচ্ছেন না। বেজপাড়া এলাকার গৃহিণী সেলিনা আক্তার বলেন, ইফতারের জন্যে ফল কিনতে হয়। তবে দাম এতো বেশি যে বাজেটে কুলোচ্ছে না। পরিবারের সবার জন্যে ফল কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দড়াটানা এলাকার মাহবুব হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রতি বছর রমজানের শুরুতেই ফলের দাম বাড়ে। প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং থাকলে হয়তো দাম কিছুটা কম হতো।

আরেক ক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, সাগর কলা, সবরি কলা ও আপেলের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অল্প আয়ের মানুষের জন্যে এতো বড় খরচ খুব বোঝা হয়ে যাচ্ছে।

ফল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মতে, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি, আমদানি কমে যাওয়া ও পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে। তবে তারা মনে করছেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।