চড়া দামে বিক্রি গরুর মাংস, কমেছে সবজি পেঁয়াজ ও মুরগির দাম

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ কৃষি বিভাগের দর নির্ধারণ উপেক্ষা করে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের দামও চড়া। তবে কমেছে খামারের মুরগি, আলু-পেঁয়াজ, সবজি ও ডালের দাম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজারের কাঠেরপুল, সবজিবাজার,মুদি দোকান ও মাছবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

রোববার কাঠেরপুলে প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা টানিয়ে বিক্রেতাদের প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। নাসির মাংস ঘরের বিক্রেতা মো. জীবন এ প্রতিবেদককে জানান, তারা বকনা গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ টাকা ও এঁড়ে গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোজা শুরুর আগে এখানকার বিক্রেতারা ৭৫০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি করতেন। সে সময় কোনো বকনা বা এঁড়ে বলে শ্রেণিবিন্যাস ছিল না। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৪ রমজানে যশোর কৃষি বিপণন অধিদফতর বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম সহনীয় রাখতে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে। গরুর মাংসের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। কাঠেরপুলের মাংস বিক্রেতারা এ মূল্য উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের নির্ধারণ করা দরে বিক্রি করছেন।

তবে কমেছে খামারের মুরগির দাম। বড় বাজারের বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম মিলন জানান, তারা ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে এ সপ্তাহে বাজারে শীতকালীন সবজির দাম আরও কমে ক্রেতাদের নাগালে এসেছে। আলু বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ১৭-১৮ টাকা, দেশি পেঁয়াজে ১৫ টাকা কমে ৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকা, গাজর,বাঁধাকপি,বিটকপি, পালংশাক ২০ টাকা করে কেজি বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ২০ টাকা কমে টমেটো ৩০ টাকা, বেগুনে ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, শসা ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, কাগজি লেবুর হালিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ টাকা, লাউ ২০ টাকা কমে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া কুশি প্রতিকেজি ৬০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, নতুন ওঠা গ্রীষ্মকালীন ঢ্যাঁড়স ১৪০ টাকা, সজনেডাটা ৪০০ টাকা ও উচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বড় বাজারের কাঁচামালের আড়তদার মো. আলাউদ্দিন জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ প্রচুর, ক্রেতাদের কেনার আগ্রহ কম, এ কারণে দাম কমে আসছে।

বড় বাজার ভুজাপট্টি গলির দোকানি শংকর মজুমদার জানান, এ সপ্তাহে খেসারি ডালের কেজিতে ১০ টাকা কমে ৯০ টাকা, ছোলার ডালে ১০ টাকা কমে ৯০ টাকা, মটর ডালে ২০ টাকা কমে ১০০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা ও চিনি (খোলা সাদা) ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তিনি আরও জানান, রোজা শুরুর দুয়েকদিন পর থেকে বাজারে বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত।

সবজি ও মুরগির দাম কমলেও মাছ বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে। রোববার বড় বাজার মাছবাজারের বিক্রেতা ইকরাম বিশ্বাস জানান, এক কেজি ১শ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৫শ টাকা, ৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৮শ-৩ হাজার টাকা, ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২৬শ টাকা ও ৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৬শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তাছাড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতা আনিসুর রহমান আনিস জানান, এক কেজি ৭শ-৮শ গ্রাম ওজনের রূই মাছের কেজি ৩শ-৩২০ টাকা, শোল ৫শ টাকা, বাইন ১ হাজার টাকা, আইড় ৫শ-৮শ টাকা, গলদা চিংড়ি ১ হাজার-১২শ টাকা, শিং ১১শ টাকা, ট্যাংরা ৪শ-৪৫০ টাকা, পাবদা ৩শ-৩৫০ টাকা ও ২টায় কেজি তেলাপিয়া ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।