নিষেধাজ্ঞা শেষে স্বাভাবিক হয়নি ইলিশের বাজার, কমতির দিকে সবজির দর

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ বাইশ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর প্রথম দিনেই যশোরে স্বল্প পরিমাণে এসেছে ইলিশ। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ২/৩ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে বিক্রেতারা জানান। এদিকে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়ে দাম কমেছে। সবজির বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দু সপ্তাহ সময় লাগবে। বাজারে খামারের মুরগি,গরুর মাংস ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

প্রজননের জন্য গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সাগরে বাইশ দিন ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। ২৫ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ২৬ অক্টোবর রোববার সকালে যশোরে উপকূল এলাকা থেকে আমদানি হয়ে ইলিশ এসেছে। স্বল্প পরিমাণে ইলিশ যশোরে আসলেও মাছের পেটে ডিম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এ মাছগুলো নিষেধাজ্ঞার আগে ধরা ও সংরক্ষণ করা।

রোববার বড় বাজার মাছবাজারে এক কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৬শ টাকা আর ৩টায় কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়। মাছ বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, আগামী বৃহস্পতি অথবা শুক্রবার বাজারে তাজা ইলিশের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বড় বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। রোববার খুচরা বিক্রেতা মো. তামিমকে পেঁপে,মুখিকচু, মুলা ও লাউ ২০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে পটল, কাঁচকলা, ঢ্যাঁড়স ও শসা। করলা ও কুশির কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে বরবটি। ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে কাকরোল, বাঁধাকপি ও শিম। বেগুন, টমেটো ও ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা।

বড় বাজারে কাঁচামালের আড়তদার ‘মনিরামপুর ভাণ্ডার’-এর মো. আলাউদ্দিন জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির আমদানি একটু একটু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সবজির দামও কমে এসেছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্য়োগ না ঘটলে আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দাম আরও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

অপরদিকে বড় বাজারে খামারের মুরগি, ডিম ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রোববার খামারের লেয়ার মুরগির কেজি ৩৪০ টাকা, সোনালি মুরগির কেজি ২৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা দেশি মুরগির কেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বলে বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান। আর বাদামি রঙের মুরগির ডিমের হালি ৪৪ টাকা ও সাদা ডিমের হালি ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় বাজার কাঠেরপুলেও বিক্রেতারা গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।