ইয়াবা সেবন করিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় ভ্যানচালক আব্দুল্লাহকে

আদালতে স্বীকারোক্তি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ডেকে নিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করিয়ে আব্দুল্লাহকে গলা হত্যা করে আটক ৩ ব্যক্তি। এর মধ্যে একজন বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবা শারমিন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

আটকরা হলেন, শার্শা উপজেলার কাজীরবেড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে বড় নেদার ছেলে আশানুর জামান আশা (৩৭), বলিদাদহ গ্রামের মৃত বজলু রহমানের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৭) ও নাভারন যাদবপুরের মৃত আইয়ুব হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সাগর (২৪)।

ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে গাতিপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল্লাহ ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন তার পিতা ইউনুস আলী মোড়ল শার্শা থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি করেন।

এরই সূত্র ধরে পরবর্তীতে ঝিকরগাছা এলাকা থেকে আব্দুল্লাহর ভ্যান উদ্ধার এবং সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লিখিত ৩ জনকে আটক করেন ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে। পরে আটক আশানুর রহমান আশার স্বীকারোক্তিতে তারই বাড়ির পাশের মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবলু সরদারের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে আব্দুল্লাহর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি একটি বাক্সের ভেতর রাখা ছিলো।

এসআই অলোক কুমার দে জানান, আটক ৩ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুকুল হোসেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশানুর রহমান আশা ও সাগর হোসেন ভ্যানচালক আব্দুল্লাহকে ডেকে নিয়ে কাজীরবেড় গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবলু সরদারের পরিত্যক্ত বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন মুকুল হোসেন। এরপর তারা সকলে সেখানে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করেন।

এক পর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুকুল হোসেন কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের কারণে আব্দুল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন মুকুল হোসেন, আশানুর রহমান আশা ও সাগর হোসেন ছুরি দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করেন। এরপর লেপ দিয়ে লাশ মুড়িয়ে তারা বাক্সের ভেতর রেখে চলে আসেন।

তিনি আরো জানান, আটক ৩ জনকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হলে এর মধ্যে আশানুর রহমান আশা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আশানুর রহমান আশাসহ আটক ৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালতের বিচারক।