জনগণ ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়েছে

যশোরে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের গণসমাবেশ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে সোমবার যশোর বিজয়স্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা আমেরিকার সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী গোপন চুক্তি এবং কৃষি খাত হস্তান্তরের চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান। বক্তারা বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, দখলবাজি ও পাথর লুটপাটের ঘটনায় জনগণ এখন মনে করছে তারা ‘ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়েছে।’

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী একটি গোপন চুক্তি করেছে, যার একটি ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো দেশের সাথে সামরিক চুক্তি করলে তা আমেরিকাকে দেখাতে হবে।’ তারা প্রশ্ন তোলেন, এই চুক্তির ফলে দেশের স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত থাকবে? বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের কৃষি খাতকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতের কৃষকরা যেমন দীর্ঘ লড়াই করে নিজেদের কৃষিকে রক্ষা করেছে, তেমনি বাংলাদেশের কৃষকরাও প্রয়োজনে জীবন দিয়ে এই খাত রক্ষা করবে।

তারা অভিযোগ করেন, উপদেষ্টাদের স্বজনরা রাতারাতি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক লুটপাট চলছে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান কাজ গোপন চুক্তি করা নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ভূমিকা রাখা।

এ সময় বক্তারা যশোরের ভবদহ সমস্যার সমাধানে অবিলম্বে টিআরএম চালুর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, মাত্র ৮১ কিলোমিটার নদী খনন ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে সরকারের ব্যর্থতার কারণে ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বিল হরিনা এবং যশোর শহর ও সেনানিবাস পর্যন্ত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বক্তারা এলজিইডি’র অনিয়মের কারণে নৌ চলাচল অনুপযোগী সেতু নির্মাণ বন্ধের অভিযোগ তুলে দ্রুত অস্থায়ী সেতু মেরামত এবং স্থায়ী সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানান।

গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা তসলিম উর রহমান। কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তুষার কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা প্রফেসর ডা. হারুন অর রশিদ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিপুল বিশ্বাস।

সমাবেশ শেষে একটি পদযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আইনজীবী ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ সরকারি এম.এম কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা আন্দোলন, ২৪-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ পাঠ করান নাজিমউদ্দীন।