যশোরের বাঘারপাড়ায় খাদ্য বিষক্রিয়ায় এক পরিবারে ১ জনের মৃত্যু, অসুস্থ ১১

0

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের বাঘারপাড়ায় পারিবারিক অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে ১ জনের মৃত্যু ও ১১ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে।

বাঘারপাড়া থানার ওসি ফকির তাইজুর ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের পরিবারে এ্ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে তারা ১২ জন এক সাথে খাবার খান। খাবারের মেন্যু ছিল ব্রয়লার মুরগি ও ডাল। খাবার খাওয়ার সাথে সাথে সকলের বমি ও পায়খানা শুরু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদেরকে উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা। সেখান থেকে ৮ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার দুপুরে ফারুক হোসেনের স্ত্রী নার্গিস বেগমের (৫৫) মৃত্যু হয়। নার্গিস বেগমের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অসুস্থরা হলেন গৃহকর্তা ফারুক হোসেন (৬০), ফারুক হোসেনের তিন মেয়ে বৃষ্টি (১৮), পিংকি (১৯) ও সুইটি (২০), বৃষ্টির ছেলে ছাফুয়ান (৪ বছর), সুইটির দুই মেয়ে সাবিহা (দেড় বছর), সাদিকা (৪ মাস), ফারুক হোসেনের শাশুড়ী আনোয়ারা বেগম (৭০), আনোয়ারা বেগমের ছেলের ছেলে জুবায়ের (২ বছর), পুত্রবধূ সেলিনা খাতুন (৩৫) ও সেলিনা খাতুনের ছেলে হাসিকুল (১৩)।

ফারুক হোসেনের মেজো জামাই বাঘারপাড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান, শ্বশুর বাড়িতে সবার দাওয়াত থাকলেও বিশেষ কারনে সেখানে যাওয়া হয়নি তার। রাতে জানতে পারেন পোল্ট্রির মাংশ খেয়ে সবার ডায়রিয়া হয়েছে। এসময় তিনি শ্বশুর বাড়ি এসে সবাইকে হাসপাতালে ভর্তিতে সহায়তা করেন।

বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার খায়রুল আল মোদাচ্ছির জানান, ২৬ মে সোমবার রাত ৯টার দিকে লক্ষীপুর গ্রামের শিশুসহ চারজন ফুডপয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এসময় চার মাসের একটি শিশু ও একজন বৃদ্ধের কোনোভাবেই বাথরুম বন্ধ হচ্ছিল না। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় ও অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাঘারপাড়া থানার ওসি আর জানান, পোল্ট্রির মাংশ খেয়ে অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্ত অনুসন্ধানে জানা যায়, রোববার পোল্ট্রি কিনে কিছুটা খেয়ে পরের দিন সোমবারের জন্য মাংস ফ্রিজে রেখে বিকেলে রান্না করেন নার্গিস বেগম। এসময় রান্না করা মাংসে হয়তো কিছু পড়ে ফুড-পয়জনিং হয়েছে। প্রথম দিন কারো সমস্য হয়নি বলেও জানান এ কর্মকর্তা।