স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় ফুট নিচে যশোরে পানির স্তর, ফলনমুখে সেচ সংকটে বোরো ধান

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ বোরো মৌসুমের শেষ মুহূর্তে যশোরে পানির স্তর নেমে গেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) যশোর সেচ বিভাগের তথ্যমতে বর্তমানে যশোরের পানির স্তর ৩১ ফুট নিচে অবস্থান করছে। স্বাভাবিক অবস্থায় পানি স্তর ২৫ ফুট নিচে নামলেও সেচযন্ত্র সচল থাকে। আগামী দুই এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাবে এমনটি আশংকা করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বোরো মৌসুমের শেষ মুহূর্তে সেচ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বতর্মানের পানির উত্তোলন ব্যয় যেমন বেড়েছে, ঠিক তেমনই সময়তো তারা সেচ দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) যশোর সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ জানান, বতর্মানে যশোরে পানির স্তর ৩১ ফুট নিচে নেমে গেছে। মাঠে কৃষকদের পানির জন্য এক প্রকার হাহাকার দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, চাহিদা মতো পানি উত্তোলন না হওয়ায় পাকার মুখে বোরো ধানের জমিতে ঠিক মতো সেচ দিতে পারছেন না। এ সময় সেচের ঘাটতি হলে, ধানের কাঙ্খিত উৎপাদন নিয়েও আশংকা দেখা দিতে পারে।

মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের কৃষক ইসামইল হোসেন রিপন বলেন, বর্তমানের পানির স্তরের অনেক নিচে নেমে গেছে। ধান রোপনের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সেচ যন্ত্রে প্রতি ঘন্টায় যে পরিমাণ পানি উত্তোলন হতো, বর্তমানে এর অর্ধেক পানি উত্তোলন হচ্ছে।

যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, তার অর্ধেক পরিমাণ পানিও উত্তোলন হচ্ছে না। এ অবস্থায় সেচ পাম্প চালানো অনেক ঝুঁকি পূর্ণ। চাহিদা মতো পানি উত্তোলন না হওয়ায় জমিতে সেচ দিতে পারছি না। যে কারণে বোরো মৌসুমের শেষ দিকে সেচ দেওয়া নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এ সময় সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলনও ভালো হয় না। বিশেষ করে ধানে চিটা পড়ার সম্ভবনা থাকে।

এদিকে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় যশোর পৌর অঞ্চলে নলকূপগুলোতে অনেক কষ্ট করে পানি উত্তোলণ করতে হচ্ছে। এমনটি জানিয়েছেন পৌর অঞ্চলের একাধিক বাসিন্দা। খড়কি অঞ্চলের বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, আমার বাড়িতে নলকূপে পানি উঠছে না। চাহিদা মতো পানি উত্তোলন না হওয়ায় খাবার পানি থেকে শুরু করে ব্যবহারের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে সাব মার্সিবল পাম্প বসানোর চিন্তা করছি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) যশোর সেচ কমপ্লেক্সের সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ বলেন, সাধারনত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পানির স্তর নামা শুরু হয়। বৃষ্টি না হলে এপ্রিল এবং মে মাসে সেটি তীব্র আকার ধারণ করে। যশোর অঞ্চলের পানির স্বাভাবিক স্তর ধরা হয় ২৫ ফুট। এর নিচে নামলে পানি উত্তোলনে সমস্যা হয়। বিশেষ করে চার ইঞ্চি ডেলিভারির ডিজেল কিংবা বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পগুলোর ক্ষেত্রে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়। অনেক সময় পানির স্তরে নিচে নেমে গেলে কয়েক ফুট মাটি খুড়ে সেচ পাম্প নিচে বসিয়ে পানি উত্তোলন করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে এই অঞ্চলে পানির স্তর যেখানে অবস্থান করছে, তাতে করে আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে যদি বৃষ্টি না হয় তাহলের ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ বলেন, যশোর অঞ্চলে সাধারত নলকূপের ক্ষেত্রে পানি স্তর ২০ থেকে ২২ ফুট এবং অগভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ২৫ ফুটের মধ্যে থাকলে পানি উত্তোলনে কোন সমস্যা হয় না। তবে পানির স্তর এর নিচে নামলে পানি উত্তোলনে সমস্যা হয়। বর্তমানে যশোরের পানি স্বাভাবিক স্তরের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে যে কারণে ও অগভীর নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলনে সমস্যা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি পানি হলে পানির স্তর আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বৃষ্টির না হলে সমস্যা বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, যশোরের মধ্যে সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি নেমে গেছে পানির স্তর। মনিরামপুর উপজেলার শতকরা ৫০ ভাগ এলাকায় পানির স্তর নেমেছে। এছাড়া চৌগাছা এবং অভয়নগর উপজেলার কিছু কিছু অঞ্চলেও পানির স্তর নেমে গেছে।