খামেনিকে হত্যা: ইরানে রয়েছে ইসরায়েলের গুপ্তচর, তার সঙ্গে যোগ হয় সিআইএর আড়িপাতার তথ্য

0
খামেনি হত্যার চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট; মোসাদের ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’ ও সিআইএর কারিগরি তান্ডব।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে কাজ করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কয়েক দশকের সমন্বিত এক নিখুঁত ও ভয়াবহ গোয়েন্দা জাল। গত শনিবার তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে মাত্র ৬০ সেকেন্ডের এক বিধ্বংসী বিমান অভিযানে খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এই অভিযানকে আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে ‘কৌশলগত ও অভিযানগত এক বিশাল চমক’ হিসেবে অভিহিত করছেন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা।

নিউইয়র্ক টাইমস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, সিআইএ গত ছয় মাস ধরে ইসরায়েলকে প্রযুক্তিগত ও জনবল দিয়ে সহায়তা করে আসছিল। মোসাদ কয়েক দশক ধরে ইরানে যে বিশাল গুপ্তচর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সিআইএর ‘সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আড়িপাতা তথ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়। সিআইএর সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা খামেনির দৈনন্দিন রুটিন, খাদ্যাভ্যাস এবং এমনকি তাঁর ফেলে দেওয়া আবর্জনার ওপর পর্যন্ত নজরদারি চালিয়েছিলেন।

শনিবার সকালের সময়টি বেছে নেওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল সিআইএ এজেন্টদের। তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে একটি কার্যালয় চত্বরে ইরানের শীর্ষ নেতাদের এক গোপন বৈঠকের খবর আগেভাগেই ছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে। খামেনি ঠিক কখন সেখানে পৌঁছাবেন এবং কতক্ষণ থাকবেন, সেই নির্ভুল তথ্য ইসরায়েলি বিমান বাহিনীকে সরবরাহ করে সিআইএ। মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ওদেদ আইলাম বলেন, “অপারেশনটি সফল হতে মাত্র ৬০ সেকেন্ড লেগেছে, কিন্তু এর পেছনে ছিল বছরের পর বছরের নিবিড় প্রস্তুতি।”

২০২১ সাল থেকে মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ‘ফরেইন লিজিয়ন’ নামে একটি বিশেষ বিভাগ তৈরি করেছিলেন, যাদের কাজ ছিল ইরানের অভ্যন্তরে শাসকবিরোধী স্থানীয় নাগরিকদের চর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। বিশেষজ্ঞ ইয়োসি মেলম্যানের মতে, ইরানিরা ফোন ব্যবহার করতে ভালোবাসেন, আর এই আসক্তিই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার ব্যক্তিগত বার্তাবাহক ও নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যবহৃত ‘বার্নার ফোন’ ট্র্যাক করার মাধ্যমেই তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

যদিও ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তারা এই সফলতাকে ইরানি শাসনব্যবস্থা নির্মূলের পথে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন, তবে অনেক প্রবীণ গোয়েন্দা কর্মকর্তা একে ‘কৌশলগত ভুল’ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে সাময়িকভাবে সমস্যা মিটলেও দীর্ঘমেয়াদে আরও উগ্র ও প্রবল প্রতিপক্ষের উত্থান ঘটার ঝুঁকি থাকে। এই হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও নতুন মাত্রার সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।