এক মাসের বেতন পেলেও আন্দোলনে অনড় চালডাল যশোরের কর্মীরা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডিসেম্বর মাসের পূর্ণ বেতন পরিশোধ এবং চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ার পরও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি চালডাল ডটকম-এর যশোর কার্যালয়ের কর্মীরা। টানা তিন মাস বেতন বন্ধ থাকার ঘটনায় শুরু হওয়া অসন্তোষ এখনো প্রশমিত হয়নি।

কর্মীদের দাবি, আংশিক পরিশোধ নয়, ঈদের আগেই সব বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে।

মঙ্গলবারও যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক-এ অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টার কার্যালয়ে কর্মীরা জড়ো হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেনদরবার করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন তলায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা আলোচনায় বসেন। কেউ কেউ প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করেন। তবে দিনের শেষে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।

মুনিয়া আক্তার প্রমি নামে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী জানান, ডিসেম্বর মাসের কিছু বেতন পরিশোধ করা হলেও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বকেয়া এখনো ঝুলে আছে। পাশাপাশি কিছু কর্মীর প্রণোদনা ও অতিরিক্ত সময়ের কাজের বিলও পরিশোধ হয়নি। তাদের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে ধার-দেনা করে চলতে হয়েছে।

অনেকেই বাড়িভাড়া, মেসভাড়া, টিউশন ফি এবং পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ঈদ সামনে রেখে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় তারা পুরো বকেয়া পেতে আন্দোলনে আছেন বলে জানান।

আরাফাত শাওন নামে আরেক কর্মী অভিযোগ করেন, পূর্বেও কয়েক দফা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবার মৌখিক আশ্বাসে তারা সন্তুষ্ট নন।

লিখিত প্রতিশ্রুতি, নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বকেয়া পরিশোধের স্পষ্ট রূপরেখা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ডিসেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ অনেকেরই একাউন্টে এখনো যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির যশোর কার্যালয়ে সহস্রাধিক কর্মী কাজ করেন, যাদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী এবং পার্টটাইম ভিত্তিতে নিয়োজিত। পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করে নিজেদের খরচ চালানোর ওপর নির্ভরশীল এসব কর্মী হঠাৎ বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন।

কয়েকজন জানান, পরিবার থেকে বাড়তি টাকা চাওয়াও তাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ আবার অন্য চাকরির খোঁজ শুরু করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক আর্থিক সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ না আসা এবং পরিচালন ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধির কারণে বেতন পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ধাপে ধাপে সব বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে এবং জানুয়ারি মাসের বেতন চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ডিরেক্টর শাহাদাত হোসেন মিঠুনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

তবে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিক্ষুব্ধ কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে আমরা মধ্যস্থতা করে অনেকটা সমাধানের পথে। আশা করা যায় বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।