যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, পেশকারের ড্রয়ার থেকে টাকা উদ্ধার 

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য বহুল আলোচিত যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার এই অভিযান চালানো হয়। প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে চলা অভিযানে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম পেশকারের ড্রয়ার থেকে ঘুষ বাণিজ্যের ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন দুদক কর্মকর্তারা। এছাড়া ওই কার্যালয়ে বেশ কিছু অনিয়মও প্রকাশ পেয়েছে দুদকের অভিযানে।

সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিওন) সাইদুর রহমান জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দুদক কর্মকর্তারা তাদের কার্যালয়ে অভিযান চালান। এরপর তারা সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমের রুমে ঢুকে বেশ কিছু সময় কথা বলেন। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে তা তারা জানেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদক কর্মকর্তারা অফিস সহকারী কাম পেশকার ভৈরব চক্রবর্তীর টেবিলের ড্রয়ার থেকে ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগীরা জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তিনি ওই ড্রয়ারে রেখে দিয়ে থাকেন। সদর সাব-রেজিস্ট্্রারের এজলাসের সামনেই তিনি টেবিল নিয়ে বসে থাকেন।

রেজিস্ট্রির জন্য দলিল এন্ট্রির সময় ভৈরব চক্রবর্তী দলিল লেখকদের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে থাকেন। দিন শেষে ওই টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে। সাব-রেজিস্ট্রার ভাগের বড় অংশ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অফিস সহকারী ভৈরব চক্রবর্তী তার ড্রয়ারের ভেতর থেকে ৫ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই টাকা তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন। যারা জমি ক্রয় করার জন্য দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসেন তাকে ফিস দিতে হয়। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে অনেক সময় ভাংতি টাকা থাকে না। এ কারণে তিনি ৫ হাজার টাকা ভাংতি করে এনে রেখেছিলেন।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক আল আমীন জানান, তারা ভৈরব চক্রবর্তীর টেবিলের ড্রয়ার থেকে ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন। এই টাকা সন্দেহজনক। এছাড়া নকল নবিশ আসমা খাতুনের কাজে কিছু অনিয়ম পেয়েছেন। এ সব বিষয় নিয়ে তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন। এরপর কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। ভৈবর চক্রবতীর কাছে টাকা পাওয়ায় তাকে আটক করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী পরিচালক আল আমীন জানান, তাকে আটক করা হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী এ বিষয়ে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

দুদকের অভিযান বিষয়ে সদর সাব রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, জেলা রেজিস্ট্রারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো বক্তব্য দেবেন না।

একই ভবনের দোতলায় জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। কিন্তু জেলা রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবু তালেব অভিযান বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্য চলে আসছে। এই দফতর নিয়ে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নানা অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, দুদকের ওই অভিযানে সহকারী পরিচালক আল আমীন ছাড়াও উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী, জালাল উদ্দিন, শফিউল্লাহ প্রমুখ অংশ নেন।