ঘাতক রূপসায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রীর

সড়ক অবরোধ এলাকাবাসীর

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাদ্রাসা শেষে বাড়ি ফেরা হলো না উর্মি খাতুনের। যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের আতঙ্ক রূপসা নামের পরিবহনের একটি ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তার প্রাণ। একমাত্র কলিজার টুকরা বোনকে হারিয়ে পাগল প্রায় একমাত্র ভাই ওসমান আলী।

যশোর-২৫০ শয্যা হাসপাতালের বোনের নিথর দেহের পাশে অবিরত কান্নারত কণ্ঠে তিনি বলতে থাকেন, এখন কে আবার সাথে খুনসুটি করবে? কসমেটিক কিনে দেওয়ার বায়না ধরবে? নিহত উর্মি খাতুন (১৪) যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে ও চুড়ামনকাটি ছাতিয়ানতলা কে আই সিনিয়র আলিম মাদ্রসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বুধবার বেলা ১২ টার দিকে মাদ্রাসা শেষে বাড়ি ফিরছিল উর্মি খাতুন। মাদ্রাসার পাশে এতিখানা সংলগ্ন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঝিনাইদহগামী খুলনা মেট্রো-ব ১১-০১৯৪ নামের রূপসা পরিবহনের ঘাতক বাসটি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে উর্মি খাতুন না ফেরার দেশে পাড়ি জমায়।

চিকিৎসকরা জানান, বাসের ধাক্কায় উর্মি খাতুন মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত পায়। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যুতে হয়েছে।

মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা ঘাতক বাসটি আটকে রাখে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যায়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উর্মি খাতুনের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শিক্ষক ও তার সহপাঠীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। সবাই ঘাতক বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

চুড়ামনকাটি (যশোর) সংবাদদাতা জানান, মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে এলাকাবাসী ও ছাত্ররা খুলনা- কুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী সব রূপসা ও গড়াই পরিবহন অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা, সাজিয়ালী ফাঁড়ি পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি জব্দ করে।

পুলিশ অবরোধকারীদের দাবি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার যশোর ডিসি অফিসে রূপসা বাস মালিক সমিতির নেতাদের সাথে বৈঠকের আশ্বাস দিলে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নেন।

এ ব্যাপারে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আব্দুর রউফ জানান, খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি আটক করি। তবে চালক পালিয়ে গেছে।