তিন মাস বেতন বন্ধ, যশোরে চালডাল ডটকমের কর্মীদের বিক্ষোভ ভাংচুর

0
মালামাল সরিয়ে অফিস বন্ধের পাঁয়তারা চালডাল ডটকমের; বিক্ষোভে উত্তাল যশোর আইটি পার্ক।। ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত অনলাইন গ্রোসারি প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকমের সহাস্রাধিক কর্মী ২ মার্চ সোমবার বিক্ষোভ করেছেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় অবস্থিত কল সেন্টার কার্যালয়ের ভেতরে তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন কর্মী ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা।

একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ফটকে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় আন্দোলকারীদের একজন মাথায় আঘাত পান। শাহীন নামের ওই কর্মীকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আকাশ আকবর নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট পদে চাকরি করে আসছেন। গত চার বছর ধরে তিনি নিয়মিত চাকরি করে আসলেও গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ১ তারিখ পর্যন্ত তিন মাসে কোনো বেতন দেয়া হয়নি। যেকারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

জিএম দূর্লভ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে চাকরি করেন। বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তাদের। সোমবার সকালে বেতন বিষয়ে জানতে চাইলে কল সেন্টারের দেওয়া মোবাইল ফোন তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হয় এবং চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির যশোর কার্যালয়ে সহস্রাধিক কর্মী কাজ করেন। তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী এবং পার্টটাইম ভিত্তিতে নিয়োজিত। টানা তিন মাস বেতন বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত হয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ বিষয়ে ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিক্ষুব্ধ কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে আমরা মধ্যস্থতার চেষ্টা করছি। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

চালডাল ডটকম যশোর অফিসের ফোকাল পারসন ইনচার্জ শাহাদত হোসেন মিঠুন এ বিষয়ে বলেন, হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ না আসায় তারা চরম সমস্যায় পড়েছেন। যেকারণে নোটিশ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করলে কর্মীরা বিক্ষোভে নেমে আসে।