মহেশপুরে নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি করতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

0

জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর (ঝিনাইদহ) ॥ মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য ওই কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানর সরাসরি কারও সাথে জমির বিষয় নিয়ে কথা বলেন না। তার অফিসের পিয়ন সুবাস বিশ্বাস সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। চুক্তি/টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়,না দিলে দিনের পর দিন এমনকি মাস পেরিয়ে যায় ফলে সেবাপ্রার্থীরা টাকা দিতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. কামরুজ্জামান উপজেলার নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

এ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ, জমির মিউটিশন করা ও খাজনা আদায়ের রশিদ কাটানো। জমি কেনার পরে প্রত্যেক জমির মালিককেই বাধ্যতামূলক জমির রেকর্ড নামজারি করতে হয়। সরকারি ধার্য অনুযায়ী নামজারি ফি ১১৭৫ টাকা।

কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো.কামরুজ্জামান তার অফিসের পিয়ন সুবাস বিশ্বাসের মাধ্যমে জমির মালিকদেরকে বিভিন্ন ভাবে এটা ওটা বুঝিয়ে হয়রানি করে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার চুক্তি করেন জমির নামজারির জন্য। ১০৭ টাকা খাজনার জন্য গুনতে হয় ২৫০০ টাকা। জমির মালিকেরা নিরুপায় হয়ে কর্মকর্তার ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার টাকা গচ্চা দিয়ে আসছেন।

হামিদুর নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানে কম ঘুষে বেশি ঘোরাঘুরি, বেশি ঘুষে কাজ তাড়াতাড়ি। আমি বাড়ির জমির খাজনা দিতে এসেছিলাম। আমার থেকে খাজনার রশিদে উল্লিখিত টাকার থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।

আমির হোসেন বলেন, আমার বোনের জমি দলিল করে দিয়েছি, সেই জমি মিউটেশন করতে সবকিছু অনলাইনে আমি করেছি। তার পরও অফিসের পিয়ন সুবাস বিশ্বাস আমার বোনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে। জানতে চাইলে সুবাস বিশ্বাস বলেন, নামজারি হওয়ার পর অফিসের বইতে তুলতে নেওয়া হয়েছে যা সবাই দিয়ে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক ভাই গত দুই-৩ মাস আগে জমির খাজনা দিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসলে ১০৭ টাকার একটি খাজনার রশিদ কেটে দিয়ে ২৫০০ টাকা নিয়েছে। আমি জমির নামপত্তন-নাম খারিজ করতে এসেছি, আমার কাছে ৪৫০০ টাকা চাচ্ছে।

কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো নামজারি হয় না।

নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. কামরাজ্জামানের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা বাড়তি কোনো টাকা নেই না।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমাকে অবগত করলেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।