বাঘারপাড়ায় হানিফ হত্যাকান্ডে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান টুটুলের বিরুদ্ধে মামলা

0
নিহত হানিফ

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুলের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইটভাটায় গুলিবিদ্ধ হানিফ মারা যাওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় চেয়ারম্যানকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাত ৫থেকে ৬ জনকে
আসামী করা হয়েছে। চেয়ারম্যান টুটুল আমুড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

লিখিত এজাহারে মামলার বাদি উল্লেখ করেছেন, আসামীরা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকতেন।

গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে আসামীরা যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ঘোপ এলকায় স্বামী হানিফের মুরগীর ফার্মে গিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে প্রকাশ্যে খুনের হুমকী প্রদান করে হানিফকে।

এরপর গত ২৯ জানুয়ারি সকালে মামলার এক নম্বর আসামী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেখা করতে বলে। দেখা না করায় একই দিন বিকেলে আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মুরগীর ফার্মে গিয়ে জোরপূর্বক হানিফকে তুলে নিয়ে উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে চেয়ারম্যান টুটুলের নিউ ইসলাম ব্রিকসে (এনআইবি) নিয়ে
আসে।

সেখানে নিয়ে হানিফকে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে মামলার এক নম্বর আসামী কামরুজ্জামান টুটুলের লাইন্সেকৃত পিস্তল দিয়ে হানিফের পেটে গুলি করে সেখানেই ফেলে চলে যায়। এরপর অজ্ঞাতনামা লোকজন হানিফকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশের মাধ্যমে ঘটনার বিবরন জানতে পারেন মামলার বাদী। যশোরে গুলিবিদ্ধ হানিফের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। বাদী এজাহারে আরও লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি চিকিৎসা শেষে হানিফকে যশোরে আনার সময় পথিমধ্যে মারা যান তিনি।

এরপর ৩১ জানুয়ারি রাতেই বাঘারপাড়া থানায় টুটুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন শিরিন সুলতানা। নিহত হানিফ যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি যশোর সদর উপজেলার দাইতলা এলাকায় জমি কিনে সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

বাঘারপাড়া থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, গুলিবিদ্ধ হানিফ মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী শিরিন সুলতানা বাদি হয়ে এ মামলা করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো আসামীকে আটক করা যায়নি।