মনিরামপুরে বিএনপি নেতা শহীদ ইকবালের রত্নগর্ভা মায়ের ইন্তিকাল, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও অধ্যাপক নার্গিস বেগমের শোক

0

 

স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর(যশোর)॥ সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ ইকবাল হোসেনের রত্ন র্ভা জয়িতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মা রাবেয়া বেগম। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল আটটার দিকে তিনি ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। মৃত্যুকালে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রত্নগর্ভা এ মায়ের ইন্তিকালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামীর প্রতিষ্ঠিত মনিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে বিকেলে জানাজার নামাজ শেষে সদর ইউনিয়নের ফতেয়াবাদ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত ডা. মহিউদ্দিন সরদারের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক পৌরমেয়র শহীদ ইকবাল হোসেন ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুকের মা রাবেয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত সপ্তাহে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে যশোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাতে তাকে আইসিইউতে(ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল আটটার দিকে তিনি ইন্তিকাল করেন।
এদিকে শহীদ ইকবালের মায়ের ইন্তিকালের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মোহাম্মদ মুছাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শহীদ ইকবালের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেন।
বিকেলে শহীদ ইকবালের পিতা প্রয়াত ডা.মহিউদ্দিন সরদারের প্রতিষ্ঠিত মনিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে ফতেয়াবাদ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে মাহবুব হাসানের ফারুকের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, মোহাম্মদ মুছা,  জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, উপজেলা শাখার আমির ফজলুল হক, সেলিম জাহাঙ্গীর, পৌর বিএনপির সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই, মকবুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
শহীদ ইকবাল হোসেনের পিতা মনিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, মনিরামপুর সরকারি কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ডা.মহিউদ্দিন সরদার ১৯৭৯ সালের ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফতেয়াবাদ গ্রামের নিজ বাড়িতে যাবার সময় কলেজের পশ্চিমপাশে আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হন। এরপর থেকে ছয় ছেলে ও তিন মেয়েকে অতিকষ্টে লালন পালন করেন রাবেয়া বেগম। তার বড় ছেলে শহীদ ইকবাল হোসেন পিতার অবর্তমানে কয়েকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও পরবর্তীতে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পৌরমেয়র নির্বাচিত হন। এছাড়া শহীদ ইকবাল হোসেন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মনিরামপুর থেকে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হন। অন্যদিকে পিতার ইউনিয়নে ছোট ছেলে নিস্তার ফারুকও কয়েবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রত্নগর্ভা  মা হিসেবে শহীদ ইকবালের মা রাবেয়া বেগম জয়িতা পুরস্কারে ভূষিত হন।