0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে আজ শুক্রবার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিশ্ব বরেণ্য আলেমে দ্বীন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। বুধবার থেকে শহরতলীর পুলেরহাটে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ মাঠে শুরু হয় এই মাহফিল। বিশাল এ মাহফিলে আজ শেষ দিনে ৮ থেকে ১০ লাখ সমাগম হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
গত দুদিন ধরে আয়োজিত মাহফিলে যশোর জেলাসহ বিভিন্ন জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে। প্রথম দিন বুধবার তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েব আমির প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মামুনুল হক।
গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে বয়ান করেন মাওলানা আমির হামজা, মাওলানা আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর মতো দেশবরেণ্য আলেমরা। এ সময় আলেমগণ তাদের আলোচনায় বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের ইমান ও আকিদা সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান করেন। আলোচনায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের আলেম সমাজের ওপর নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়নের কথা উঠে আসে। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্রের কবল থেকে দেশকে সুরক্ষা করতে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান আলেমরা।
আদ দ্বীন ফাউন্ডেশনের পাবলিক রিলেশনস কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তারেক বলেন, তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটছে। তবে শুক্রবার রেকর্ড সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে বলে তিনি জানান। দক্ষিণের জনপদে নিকট-অতীত যেকোনো সময়ের চেয়ে এটি সর্ববৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত বলে তিনি জানান।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। মাহফিলে নারীদের জন্যে বসার পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিদিন ইসলামি নাশিদ পরিবেশন করবেন দেশ বরেণ্য ইসলামি কণ্ঠশিল্পীরা।
আলেমরা তাদের বক্তৃতায় তুলে ধরছেন, রাষ্ট্রীয় অর্থে বিবর্তনবাদ, ট্রান্সজেন্ডার, অসভ্যতা, বর্বরতা শিক্ষার চক্রান্ত প্রভৃতি বিষয়। তারা বলেন, আমরা বলছি, কুরআনকে ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি শিশুর হৃদয়ে আল্লাহর কুরআনের আলো জ্বালাতে হবে। প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিশুদ্ধ কুরআন পড়ানোর আওয়াজ গণদাবিতে পরিণত করতে হবে। এ অধিকার যদি স্বাভাবিকভাবে পূরণ না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঈমান- আকিদা রক্ষায় যে কোনো মূল্যে তা আদায় করে নিতে হবে।